ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ১ রবিউস সানি ১৪৪০

আনোয়ারায় বিক্ষুদ্ধ জনতার পুলিশ বক্স ভাংচুর, সড়ক অবরোধ

এম. ইমরান হোসাইন, আনোয়ারা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৮ ২:২১ দুপুর

আনোয়ারায় ট্রাফিক পুলিশ কতৃক এক কাভার্ড ভ্যান চালককে মারধরের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ও চালকেরা সম্মিলিতভাবে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা ও পুলিশের একটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংােগের ঘটনা ঘটেছে। জনতা সড়ক অবরোধ করলে ওই সময় দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। গত বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
থানা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার বেলা ১১ টার সময় উপজেলার চাতরী চৌমুহনীতে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের এসআই মো. আনোয়ার ও পুলিশের সোর্স চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাওয়া একটি কাভার্ডভ্যানের (ঢাকামেট্রো-ট ২২-৪৯৩৯) চালক মো. রুবেলকে সংকেত দেন। ওই সময় গাড়ির চালককে গাড়ি থেকে নামার পর তাঁকে পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে কাগজপত্র তল্লাশিকালে দুপক্ষে ব্যাপক তর্কাতকি হয়। এক পর্যায়ে রুবেলকে কিলঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন

পুলিশের সদস্য ও তাঁদের সোর্সেরা। এ ঘটনা দেখে চালকের সহকারী কাভার্ডভ্যানটি সড়কের উপর আড়াআড়ি করে রাখলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
এদিকে, চালকের সাথে পুলিশের এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গাড়ীর চালক ও স্থানীয়রা মিলে সম্মিলিত বিক্ষোভ দেখান এবং ট্রাফিক পুলিশের বক্সে হামলা চালায়। এসময় পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চাতরী চৌমুহনী বাজারের চারপাশে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়লে শত শত যান আটকা পড়লে আনোয়ারা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে চট্টগ্রাম শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হলে দুই ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে আধা ঘন্টা কাজ করে। জনতা এগিয়ে এসে চালক মোহাম্মদ রুবেলকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে পাঠান।
সূত্র জানায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক, কলেজ বাজার, ক্রশিং, ফকিরনীরহাট, বড় উঠান, দৌলতপুর, রাজছিলা ফকির মাজার, চাতরী চৌমুহনী বাজার, শোলকাটা রাস্তার মাথা এলাকায় প্রতিদিন তল্লাশির নামে বিভিন্ন যান বাহনের চালকদের হয়রানী করার অভিযোগ ওঠে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। তাঁরা সকাল নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ধরনের কাজ করে। ওই সময় গণহারে চাঁদাবাজী চলে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সমিতির নামে অন্তত ১০টি সংগঠন টোকেন বাণিজ্য করে। এসব টোকেনের টাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা পান বলে চালকেরা অভিযোগ করেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাপাক্ষোভ চলে আসছিলো চালকদের মধ্যে। বুধবারের ঘটনায় চালক ও স্থানীয়রা এই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটান।
ট্রাফিক পুলিশের এস আই মো. আনোয়ার বলেন, কোন চালককে আমরা মারিনি। এটা ¯্রফে ভুল বুঝাকুঝির কারণে হয়েছে।
জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলেই উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।