ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , , ৬ সফর ১৪৪০

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের গর্ব

মোঃ ফারুক ইসলাম,বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ ২:৩৫ দুপুর

বিশ্বে বিভিন্ন সময় দেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত  মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর অনেক দেশ প্রেমিক নেতার আর্বিভাব ঘটেছিল। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগ হয়ে যখন ভারত, পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল তখন পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের মানুষরা প্রতিনিয়ত শোষণ আর নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো দেশপ্রেমিক নেতাগণ আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন। তবে বাঙ্গালী জাতিকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র যিনি উপহার দিয়ে গেছেন তিনি আর কেউ নন বাঙ্গালীর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাঁর ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবিকে বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ বা বাঙ্গালীর ম্যাগনা কার্টা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যিনি পাকিস্তানীদের হাত থেকে প্রিয় জন্মভূমিকে স্বাধীন করার জন্য পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন। যাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙ্গালী  জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যে ভাষণ বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দেশ স্বাধীন হবার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ার কাজে নেমেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর স্বপ্ন ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ার। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলার কিছু হায়েনার হাতে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করতে হয়েছিল। হায়েনারা হয়তো ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে শেষ করে দিতে পারলে বঙ্গবন্ধুর কোন উত্তরসূরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। শুধু তাই নয়, বিশ্বের যেকোন দেশে সাধারণ একজন লোককেও  হত্যা করা হলে অপরাধীকে বিচারের আওতায় এনে বিচার করার আইন থাকলেও তৎকালীন সরকার ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মতো কালো আইন জারি করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার বাঁধাগ্রস্থ করে। কিন্তু সত্যের  জয় সব সময় সবখানেই বিরাজমান। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর গড়া দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জনগণের বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। আর তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেই পিতার আদর্শে বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার দেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন, সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে মনযোগ দেন। কিন্তু হায়েনারা পিতার মতো কন্যাকেও হত্যা করার উদ্দেশ্যে চক্রান্ত চালিয়ে যেতে থাকে। গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে বেশ কয়েকবার হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত থেকে তিনি বার বারই বেঁচে ফিরেছেন। ষড়যন্ত্রকারীদের এতো হামলার পরও দমে যাননি তিনি। বরং বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবনকে তিনি উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করেন না বলে জানিয়ে দিয়ে সোনার বাংলা গড়ার কাজ চালিয়ে যেতে থাকলেন। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশের পাহাড়ে চলমান অস্থিরতা থামিয়ে পাহাড়ী বাঙ্গালী পাশাপাশি বসবাসের জন্য তিনি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি করে  বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। বহুদিন ধরে চলে আসা পাহাড়ের অস্থিরতা শান্তি চুক্তির মাধ্যমে থামিয়ে তিনি পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি টানা  ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে বাংলাদেশকে রূপান্তরিত করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে তথ্য-প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে। যারা এক সময় ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে কখনও করা সম্ভব হবে না তাদের  ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বঙ্গবন্ধুর আত্ম স্বীকৃত খুনিদের বাংলার মাটিতে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির মাধ্যমে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্তানীদের দোসর ছিলো তাদেরকেও বিচারের আওতায় এনেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সফলতা লাভ করেছেন। তম্মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা, শান্তিচুক্তি, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, সমুদ্র বিজয়, নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দিন বদলের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে জয়লাভ করে সরকার গঠনের মাধ্যমে। চলতি মেয়াদসহ তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মেধা, দক্ষতা নেতৃত্ব, সততা দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচিতি দিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল। দেশ থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিদের কঠোর হস্তে দমন করে  বিশ্বের সকল নেতা থেকে শুরু করে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকেই দিবসটিকে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলো  যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে । ২০০৯ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হেগের সালিশি আদালতে নোটিশ করে। এর পথ ধরেই ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার রায় পায়। এতে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের রাষ্ট্রীয় সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদে ইন্দিরা মুজিব চুক্তি কার্যকর করায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হয়। ৬৮ বছর পর নাগরিক হিসেবে পরিচয় পায় ছিটমহলবাসী। সফল প্রধানমন্ত্রী  হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে  অবদান রাখায় তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন । কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা তাঁকে সম্মাননা দিয়েছে। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট) ডিগ্রি প্রদান করে। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য একই বছর পেয়েছেন ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন ‘চ্যানেল ফোর’ তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ আখ্যা দেয়, দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস আখ্যা দিয়েছে ‘স্টার অব দি ইস্ট’। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কার’ ও ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করে জাতিসংঘ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরষ্কার-২০১৫ ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য পান ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’। রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য পান ওম্যান ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড। নারী ও শিশু শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘শান্তি বৃক্ষ পদক’ পুরস্কারে ভূষিত করে । সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য ২০১৪ সালে ‘সাউথ সাউথ’ পুরস্কার দেয় জাতিসংঘ। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন অবদানের জন্য ‘মান্থন অ্যাওয়ার্ড’, ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’, ‘কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’, ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’, ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’, জাতিসংঘের ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অ্যাওয়ার্ড’, ‘ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক-২০০৯’, ‘পার্ল এস বাক পদক’, ‘ডক্টরস অব হিউম্যান লেটার্স’, ‘সেরেস পদক’, ‘মাদার তেরেসা পদক’, ইউনেস্কোর ‘ফেলিং হুফে বইনি শান্তি পুরস্কার’, ‘নেতাজি মেমোরিয়াল পদক-১৯৯৭’সহ বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি  বিশ্বখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের ক্ষমতাধর শত নারীর তালিকায় ৩৬তম এবং নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেন। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক সফলতার পালকযুক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে বর্তমানে দেশের টাকায় নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া ৩০ লক্ষ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতির উদ্দেশ্যে গত ১৮ জুলাই পরিবেশ দিবসে  সারাদেশে ৩০ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ করা হয়। একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী, চৌকষ নেতা, মমতাময়ী  মা, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল, সুখি, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে যে অবদান তা অনস্বীকার্য। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা শুধু প্রধানমন্ত্রীকেই গর্বিত করেনি ,তাঁর প্রাপ্তি গর্বিত করেছে সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে। তাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব। আগামীকাল আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য রইল অসংখ্য শুভ কামনা।