ঢাকা, সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , , ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০

আমার অফিসার যেখানেই হাঁটবে,সেখানেই ডিউটি , ওসি সীতাকুন্ড

রাজীব চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ ১:২১ দুপুর

সীতাকুন্ড থানার ওসি মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন মুঠোফোনে  বলেন,উনি মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে, সিগন্যাল দিছে, উনাকে কেন সিগন্যাল দিল এজন্যই আমার অফিসারের সাথে কথা-কাটাকাটি,বাক-বিতন্ডা। অন-ডিউটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমার সাব-ইন্সপেক্টর পথে-ঘাটে হাঁটা অবস্থায় ডিউটি,এটা কি বলেন! আমার ২৪ঘন্টাই ডিউটি। আমার সাব-ইন্সপেক্টর অফিসার যেখানেই হাঁটবে,সেখানেই ডিউটি। ‘ঐ সাংবাদিকের গাড়ির মোটেই কোন কাগজপত্র ছিল না’। ‘সাংবাদিক শুধু সে ,এ কারণেই তাকে সম্মান দেখাইছে,তাকে এরেষ্ট করে আনাটাই ভালো ছিল তাহলে’। চলন্ত মোটর সাইকেলকে আচমকা চাপা দিয়ে থামিয়ে নিজের গাড়ির ড্রাইভারকে দিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলেন সীতাকুন্ড থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদ্যুত ঘোষ চৌধুরী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় সাংবাদিক আজহার মাহমুদের সাথে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ওই এসআই’র কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক আজহারকে বলেন, যে কেউ যে কারো কাছে গাড়ির কাগজ চাইতে পারে ! পুলিশের ড্রাইভারতো চাইতেই পারে ! পুলিশের গাড়ির ড্রাইভারও গাড়ির কাগজ চেক করতে পারে’ সাংবাদিককে বললেন সীতাকুন্ড থানার এসআই প্রদ্যুত। মুঠোফোণে বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আনুমানিক ৬৫ কিলোমিটার বেগে তিনি মোটর সাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় আচমকা পেছন থেকে একটা প্রাইভেট কার সামনে এসে বাম পাশে চাপা দেয়। এ সময় তিনি গাড়ি স্লো করেন। পরে চলন্ত অবস্থায় ওই এসআই বলেন ‘আপনার গাড়ি থামান, চেক করবো।’এ সময় সাংবাদিক আজহার ইশারা দিয়ে একটু সামনে আলোকিত জনমানব স্থানে যেতে বলেন। এ কথা বলতেই এসআই’র গাড়ির ড্রাইভার পুনরায় বাইককে চাপা দেন। এ সময় প্রায় পড়তে পড়তে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন আজহার। পরে এস আই প্রদ্যুত কোমর থেকে অস্ত্র বের করে ফিল্মি স্টাইলে দ্রুতবেগে গাড়ি থেকে নেমে আসেন। কোনো কথাবার্তা না বলেই মোবাইল ফোনে সাংবাদিক আজহারের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করেন , ‘আপনি কী সাংবাদিক?’ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে কিছুটা হতাশ দেখায়। এ সময় আরেক লোক এসে ধমকের সুরে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। সাংবাদিক আজহার ওই লোকের পরিচয় জানতে চাইলে এসআই জানান, তার গাড়ির ড্রাইভার। ড্রাইভার কেনো কাগজ চাইছে জানতে চাইলে এসআই বলেন, ‘সে আমার গাড়ির ড্রাইভার, সে কাগজ চাইলে কী সমস্যা?’ এসময় এসআই প্রদ্যুত গাড়ির কাগজ দেখার কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে সাংবাদিক আজহারের গ্রামের বাড়ি, শহরের বাসার খোঁজ খবর নেন। অফিসের যে কোন উর্দ্ধতনকে ফোন দিতে বলেন। এ সময় তার ড্রাইভার পুনরায় বলেন, সাংবাদিক হলে কী হবে, কাগজ দেখান। এক পর্যায়ে সাংবাদিক আজহার তাকে থামানোর কারন, ছবি তোলার কারণ, অন ডিউটিতে আছে কিনা জানতে চাইলে এসআই প্রদ্যুত উত্তর না দিয়ে চলে যেতে বলেন। পুনরায় কারণ জানতে চাইলে তিনি দ্রুত তার গাড়িতে উঠে চলে যান। বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ এ বিষয়ে আরো বলেন, মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে কোনো বিশেষ অভিযান ছাড়া এভাবে গাড়ি থামানো আইনসিদ্ধ নয়। থানায় খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এসআই প্রদ্যুত অন ডিউটিতে ছিলেন না। কেবল অনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযানের নামে এভাবে হয়রানি করা হয়। তার উপর ওই এসআই একা একা এই ধরণের অভিযান চালাতে পারেন না। আর কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়া এভাবে ছবি তোলা মানহানিকর। আবার ড্রাইভারকে দিয়ে কাগজপত্র চেক করা রীতিমতো অন্যায়। এরকম ব্যক্তি উদ্যেগে এমন অনেক পুলিশ সদস্য অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। সুযোগ পেলে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। এর আগেও সীতাকুন্ড থানা এলাকায় এই ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। আরো অনেকে এমন অভিযোগ দিয়েছে। এমন কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানি না হয়। সাংবাদিক আজহার বলেন, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেটি ডাকাত প্রবণ এলাকা। অতীতে ওই এলাকায় অনেকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসআই প্রদ্যুত যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি পুলিশের গাড়ি নয়। তার গায়ে পুলিশের পোশাকও ছিলো না। তার সাথে পুলিশের অন্য কোনো সদস্যও ছিলো না। তিনি যে আচরণ দেখিয়েছেন সেটা ছিলো ডাকাত সুলভ। তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললেও তিনি দেখাননি। মহাসড়কের অনেক স্থান জনমানবশূণ্য হওয়ায় সুযোগ নিয়ে সীতাকুন্ড থানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।বিষয়টি সীতাকুন্ড থানার ওসিকে জানিয়েছেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে আজহার মাহমুদ বলেন, ব্যস্ততার কারণে আমি এখনো জানাইনি, তবে আমি শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে ওসি,এএসপি এবং এসপি’র সাথে কথা বলব। বিষয়টি ইতিমধ্যে আমার সাংবাদিক বন্ধুমহলে জানিয়েছি।