ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ , , ৩০ মুহররম ১৪৩৯

আমিরাতে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল এক ব্যবসায়ী ইয়াকুব সুনিক

শিবলী আল সাদিক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭ ১:৫০ দুপুর

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে :: সংযুক্ত আরব আমিরাতে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় অসম্ভব সফলতা এনেছেন প্রবাসী সনামধন্য ব্যবসায়ী বাংলাদেশ কমিউনিটির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব মো. ইয়াকুব সুনিক। দুবাইয়ের সমৃদ্ধ নগরী ইন্টারন্যাশনাল সিটি ও জেবল আলীতে সরফুদ্দিন রেস্টুরেন্ট নামে দুটি রেষ্টুরেন্ট আমিরাত প্রবাসীদের নিকট সুপরিচিত। পাশাপাশি ইয়াকুব সুনিক নিজেকে একজন মানবতাবাদী সমাজকর্মী হিসেবে প্রবাসীদের নিকট প্রতিষ্টিত করেছেন। রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় বিল্পব ঘটানোর পেছনের নেপথ্যে রয়েছে তার মেধা ও শ্রম। ২০১২ সালে বাংলাদেশীদের জন্য আরব আমিরাতে ভিসা বন্ধ না হলে ইয়াবুল সুনিকের এগিয়ে যাওয়ার গল্প আরো অনেক দীর্ঘ হতে পারত।

মো. ইয়াকুব সুনিক বলেন, এই রেষ্টুরেন্টে আমি আগামী দিনে ব্র্যান্ড রেষ্টুরেন্ট হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। ভোজন রশিকদের জন্য সরফুদ্দিন রেষ্টুরেন্ট রকমারি খাবারের জন্য অনেক আগেই মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে। যদি আমিরাতের অবস্থা পরিবর্তন হয় তাহলে বাংলাদেশীদের পাশাপাশি আমিরাতের সকল ভোজন রশিকদের জন্য প্রতিটি স্টেটে চেইন রেষ্টুরেন্ট খোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে ইয়াকুব সুনিক জানিয়েছেন। এই সফল ব্যবসায়ী ১৯৯৯ সালে শূণ্য হাতে আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। আর দশজন প্রবাসীর মতো জীবিকার তাগিদে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ভিসা কিনে ভাগ্য পরিবর্তনের নেশায় তিনি দুবাইয়ে যান। দুবাইয়ের হামেরিয়া ভেজিটেভল মার্কেটের একটি দোকানে ৬মাস কর্মরত ছিলেন ইয়াকুব সুনিক। এরপর শুরু করেন রিয়েলস্টেট ব্যবসা। দীর্ঘ ৮ বছর এ ব্যবসায় ইয়াকুব সুনিক মনোযোগ দিয়ে তার ভাগ্য পরিবর্তন করে নেন। মারহাবা রিয়েলস্টেট নামক এই প্রতিষ্ঠানটি তার জীবনের মোর ঘুরিয়ে দেয়। দুবাইয়ের শাসক যখন দুবাইকে সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে ব্যপক পরিবর্তনে অন্বেষায় হাত লাগান তখনি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দুবাইয়ের বিখ্যাত ইন্টারন্যাশনাল সিটি চায়না এরিয়ায় ইয়াকুব সুনিক গড়ে তুলেন সরফুদ্দিন রেষ্টুরেন্ট নামক এক অভিজাত রেষ্টুরেন্ট। এরপরে ইয়াকুব সুনিককে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। মূলত এই রেষ্টুরেন্টই তাকে অসম্ভব সফলতা এনে দেয় । যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানে সোনা ফলিয়েছেন। আল্লাহ তালার বরকত ও নিয়ামত সহায়ক হয়েছেন মো. ইয়াকুব সুনিকের প্রবাস জীবনে। এরপর ২০০৯ সালে দুবাইয়ের আলকুজ এলাকায় ইয়াকুব সুনিক গড়ে তোলেন সরফুদ্দিন রেষ্টুরেন্টের দ্বিতীয় ব্রাঞ্চ। রিয়েলস্টেট এবং রেষ্টুরেন্ট দুটি ব্যবসায় ইয়াকুব সুনিককে সফলতার শীর্ষে নিয়ে গেছে। সম্প্রতি তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্ট খোলার পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

১৯৭২ সালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার খাজা রোডের মনোকন্ট্রাক্টারের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন ইয়াকুব সুনিক। পিতা মরহুম মুন্সি মিয়া, মাতা আনোয়ারা বেগমের তৃতীয় সন্তান মো. ইয়াকুব সুনিক। ছোট বেলায় তিনি মা-বাবা হারিয়েছেন। এতিম হয়েও পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ছিলেন ইয়াকুব সুনিক। স্থানীয় এসএমসি স্কুল এন্ড কলেজে পড়াশোনাকালীন সময়ে জিবীকার তাগিদে তিনি বিদেশ যেতে উদ্যোগী হন। মা-বাবাকে হারালেও জীবনে কখনও নীতি বিচ্যুতি হয়নি। জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়েছেন প্রতিনিয়ত। ২০০৫ সালে প্রবাস জীবনে থাকাকালীন সময়ে তিনি শরীফা আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবারে তার তিন ছেলে মেয়ে। বড় মেয়ে জান্নাতুল সাইফা, মেঝ মেয়ে জান্নাতুল তাইয্যেবা ও ছোট ছেলে মো. সাঈফ দুবাইয়ের স্বনাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি মাধ্যমে পডাশোনা করছেন।

তিনি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন মানুষের মতো মানুষ করার জন্য। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ইয়াকুব সুনিক এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা গরীব অসহায় ছেলে-মেয়েদের বিয়েসহ এলাকার বিধবাদের আত্মিক সহায়তা দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মা-বাবা হারিয়ে আমি যখন নি:স্ব ছিলাম তখন মানুষের অসহায় অবস্থা আমি খুব ভাভভাবে উপলব্দি করেছি। তাই যতদিন আমার স্বচ্ছলতা তাকে আমি ততদিন মানুষের সেবা করে যেতে চাই। ইয়াকুব সুনিক বিদেশের পাশাপাশি দেশেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় পেলে তিনি আগামীতে দেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আসবেন বলেও জানান। এই মূহুর্তে তিনি প্রবাসে বিশেষ করে আমিরাতে যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের অবস্থান সুসংহত করতে ও বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত রাখতে ভিসা জটিলতার মতো বিষয়টি নিরসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান। ইয়াকুব সুনিকের মতো সকল প্রবাসী যেন জীবনের গতিপথ খুঁজে পায় এবং মানবতার কল্যানে এবং দেশের কল্যাণে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, অসংখ্য ব্যবসায়ী আছেন যারা বছরের পর বছর ভাগ্য পরিবর্তন করতে গিয়ে হতাশায় ভূগেন। এক্ষেত্রে পরিশ্রম এবং নিষ্টা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যে সহায়ত ভূমিকা রাখে ইয়াকুব সুনিক তার অন্যতম দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, শুধু টাকা অর্জন করে নিজেকে পরিবর্তন করবে তা নয়, সমাজ পরিবর্তনেও এগিয়ে আসতে হবে। ইয়াকুব সুনিক তার অর্জিত উপার্জন দিয়ে শুধু নিজেকে বদলে দেয়নি, তার এলাকার সমাজ বদলে দেয়ার ভূমিকায়ও অবতির্ণ হয়েছেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রতি বৎসর শ্রম ও মেধার মূল্যায়ন করে ১ হাজার এবং দুই হাজার দিরহাম এবং প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় জনকে গোল্ড মেডেল দিয়ে পুরস্কৃত করেন। এই গোল্ড মেডেলে থাকে প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণ।

লেখক :: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি’র মধ্যপ্রাচ্য ইনচার্জ