ঢাকা, রোববার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯ , , ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

আ. লীগ ১৬৮ থেকে ২২০ আসনে জয়ী হবে: জয়

সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮ ৯:০২ সকাল

ঢাকা :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। একটি গবেষণা প্রতিবেদনকে উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে বৃহস্পতিবার দেয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে ১৬৮ থেকে ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে।

সজীব ওয়াজেদ জয় তার ওই ফেসবুক পোস্টে জানান, নিরপেক্ষ গবেষণা সংগঠন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) দ্বারা এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এই বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় জাতীয় জনমত জরিপটি করানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

জরিপটির জন্য দেশের ৫১টি নির্বাচনি আসনের ৫১,০০০ নিবন্ধিত ভোটারের সাথে, অর্থাৎ প্রতি আসনে অন্তত ১,০০০ ভোটারের সাথে কথা বলা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল নির্বাচনের ফলাফল আমলে নিয়েই এই ৫১টি আসন জরিপের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে বেছে নেয়া হয়েছিল বলে জয় জানান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ আসনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিন্ন ভিন্ন দলের জন্য ভোট দেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে বা সাধারণত জয়ের পার্থক্য সবচেয়ে কম থাকে এ আসনগুলোতে।

জয় জানান, জরিপটি মনোনয়ন প্রক্রিয়ার আগে করায় প্রার্থীদের ব্যাপারে জনমত এতে জানা যায়নি। কিন্তু দলগতভাবে, ৫১টি আসনেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে। ১২.২ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা জয়পুরহাট-১ আসনে আর ৭৫ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা বরিশাল-৪ আসনে। যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তাদের সবচেয়ে কম সংখ্যা দেখা যাচ্ছে টাঙ্গাইল-৩ আসনে, ২.৫ শতাংশ। এই আসনে আওয়ামী লীগের সাথে নিকটবর্তী দলের ব্যবধান ৪১.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৯.৮ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সিদ্ধান্তহীনদের সংখ্যা সাতক্ষীরা-৩ আসনে, যেখানেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের ব্যবধান ৬৪.৭ শতাংশ।

জরিপটিতে দেখা গেছে, গড়ে ৬৬ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করছেন, আর বিএনপির সমর্থক ১৯.৯ শতাংশ। ৮.৬ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নেননি। যারা সিদ্ধান্ত নেননি তাদের থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনের ব্যবধান অনেক বেশি।

জরিপ অনুসারে কোনো আসনেই আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ১০ শতাংশের মধ্যে নেই, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। শুধু ২টি আসনেই আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ২০ শতাংশ। এর মধ্যে ২৮টি তে, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি জরিপকৃত আসনে, আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ৫০ শতাংশের বেশি। সমর্থনের পার্থক্য ১০ শতাংশের এর বেশি হলেই দ্বিতীয় দলটির জন্য তা পার করা মোটামুটি অসম্ভব হয়ে যায়, আর ২০ শতাংশের বেশি পার্থক্য থাকলে একাধিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দ্বারাও তা টপকানো সম্ভব হয় না বলে জয় উল্লেখ করেছেন।

এই ফলাফল গুলো বয়স ও লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে বের করা হয়েছে, তাই মোট ফলাফল সর্বক্ষেত্রে শতভাগ নয় বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন জয়। সেখানে তিনি লিখেছেন, আসন অনুযায়ী ‘মার্জিন অব এরর’ ৩ শতাংশ এবং আস্থা স্তর বা Confidence Level ৯৫%। সম্পূর্ণ ৫১,০০০ স্যাম্পল এর ‘মার্জিন অব এরর’ ০ শতাংশ এবং আস্থা স্তর বা Confidence Level ৯৫%।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, এই জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং ১৯৯১-২০০৮ এর নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর তার বিশ্বাস, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৮ থেকে ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি ব্যবধানে এবার আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে জানিয়ে ওই ফেসবুক পোস্টটির ইতি টানেন তিনি।