ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৮ , , ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

ইবাদতের প্রত্যয়ে মাহে রমযানকে স্বাগত

সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: মে ২৮, ২০১৭ ৮:৫৬ সকাল

mahe-romjan

:: হাফেজ মুহাম্মদ আনিসুজ্জমান ::

নাহ্‌মাদুহু ওয়া নুসাল্লীআলা রাসুলিহিল কারীম।

বর্ষ পরিক্রমায় আবার ফিরে এলো মহিমান্বিত মাহে রমযান। মনের দুয়ার খুলে স্বাগত জানাই মাহে মুবারককে। খোশ আমদেদ, হে মাহে রমযান। ১৪৩৮ হিজরি সনের সিয়াম’র এ নতুন মাস, মুবারক হো। হিজরি সনের নবম মাস মাহে রমযান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অযুত পশরা নিয়ে আবারো হাজির মুসলিম বিশ্বের দ্বার প্রান্তে। হৃদয় নিংড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করি স্রষ্টার আনুগত্যের দৃঢ় প্রত্যয়ে আহলান সাহ্লান, মারহাবা হে মাহে কুরআন। তোমার আগমন হোক যত সমৃদ্ধি লয়ে, মুছে যাক যত পাপ-তাপ-গ্লানি, ঘুচে যাক ঘৃণ্য পাপ বাসনা, অপরাধ, দূরে যাক সব হীন অকল্যাণ।

হিজরি বর্ষ গোনা যায় চাঁদের হিসাবে, তাই এটি চাঁদের বছর। আসমান-যমীনের মহান স্রষ্টার ঘোষণা, “তারা আপনার নিকট নতুন চাঁদ সম্পর্কে জানতে চাইবে, আপনি বলে দিন, এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় নিরূপণের মাধ্যম।” (সুরা বাকারা: আয়াত-১৮৯)। অনুরূপ বর্ণনা সুরা ইউনুস’র ৫ম এবং সুরা বনী ইসরাঈলের ১২ নম্বর আয়াতেও বিদ্যমান। চাঁদের পালকি চড়ে আসে মাহে রমযান। তাই চাঁদের হিসাব রাখা দরকার। রমযানের এক মাস সিয়াম পালন করা মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরয। এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে নিদেনপক্ষে রমযান ও শওয়াল মাসের চাঁদ সাগ্রহে দেখা ও এর হিসাব রাখা ইবাদতের স্বার্থেই জরুরি। এ মাসের ইবাদত বন্দেগী আকর্ষণে চন্দ্র দর্শনের আগ্রহ বাড়ানোও যৌক্তিক। হযরত আবু হুরায়রা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (দ.) ইরশাদ করেন, “তোমরা রমযানের চাঁদ দেখে রোযা রেখো, আর শওয়ালের চাঁদ দেখে রোযা ছেড়ো”। (বুখারী ও মুসলিম)
রাসূলে কারীম (দ.) নতুন চাঁদ দেখতেন এবং নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি সুস্বাস’্য ও রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি কামনা করতেন। এগুলোর সবটাই আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের নিরবচ্ছিন্ন গতি প্রবাহের জন্য নিঃসন্দেহে অপরিহার্য, অথচ আমাদের ইচ্ছাধীন নয়। তাই মাহে রমযানে আমরা যেন ভাল ও সুস’ থাকতে পারি, এটাই কামনা।

সর্বময় ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ্ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন, “মাহে রমযান হল সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল্কুরআন। যা মানুষের জন্য পথ নির্দেশনা এবং হেদায়তের স্পষ্ট দলীল ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপক। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসটিতে উপসি’ত থাকবে, সে যেন এ মাসের রোযা রাখে।” (২:১৮৫) পুরো রমযানে রোযা পালনের অপরিহার্যতা, এ আয়াত থেকেই সাব্যস্ত হয়। রমযানের মাসে উপসি’ত বা বিদ্যমান থাকার অর্থ এই মাসটিকে এমন অবস’ায় পাওয়া, যাতে রোযা রাখার সামর্থ্য থাকে। মৌলিক সামর্থ্য হল বোধশক্তি সম্পন্ন হওয়া, মুসলমান হওয়া ও বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া। সাথে সাময়িক অপারগতা থেকেও মুক্ত হওয়া, যেমন- মুকীম অর্থাৎ সফরে না থাকা, আর হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র মহিলা। রুগ্ন ও অতিশয় বৃদ্ধ ফিদইয়া দেবেন।

বর্ণিত সামর্থ্য থাকা প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য এ মাস রোযা রাখা ফরয। কোন অবস’াতেই এর ব্যত্যয় করা যায় না। আমরা আরবী ‘সিয়াম’ শব্দের তর্জমায় ফার্সী ‘রোযা’ শব্দ ব্যবহার করি, কারণ এটি বহুল প্রচলন এবং সর্বজনবোধ্য হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। রোযা আল্লাহর নির্দেশ ও ফরয ইবাদত। তাই রোযাদার ক্ষুধায় মরে না। এতে রূহানী প্রবল হয়।

মাহে রমযানের প্রথম তারিখ থেকে আমরা ইশার নামায শেষে বিশ রাকাত তারাভীহ্’র নামায আদায় করবো। এটি সুন্নাতে মুআক্বাদাহ্। অনাদায়ে গোনাহ্গার হতে হয়। নামাযটি সুন্নাত হলেও মাহে রমযানের রাতে বিশেষ ইবাদত এবং সিয়াম’র পরিপূরক। এ নামাযের মধ্যে একবার খতমে কুরআন আদায়ও কিফায়াহ্ সুন্নাত, যা আনাদায়ে মহল্লার সকলেই গোনাহগার হয়। তাই আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, দিনের বেলায় পানাহার ও ইন্দ্রিয় সম্ভোগ থেকে বিরত থাকবো এবং রাতের নামাযে সবাই শামিল হবো।

লেখক : আরবী প্রভাষক, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা।

খতিব : হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (র.) মাজার জামে মসজিদ।