ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ , , ১০ জ্বিলকদ ১৪৩৯

উখিয়ায় ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে বেঁধে গণধর্ষণ:ধর্ষক চাকমা যুবক আটক

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জুন ২৮, ২০১৮ ১:২৯ দুপুর

চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বেঁধে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তিন উপজাতি চাকমা যুবক। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষিতা ছাত্রীকে উদ্ধার ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এক চামকা যুবককে আটক করেছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া গ্রামে বর্বর অতচ অমানবিক এঘটনাটি ঘটেছে। ধর্ষিতা ছাত্রী বর্তমানে উখিয়া থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। উক্ত ছাত্রী স্থানীয় জাফর আলমের কন্যা নিফা (ছদ্দনাম) (১০)। সে স্থানীয় একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী।
জানা গেছে, গত কয়েক মাস যাবত একটি মামলায় আটক হয়ে কারান্তরিন রয়েছে শিশু ছাত্রীর বাবা। বাড়ির কর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে গত ২৫ জুন সোমবার রাতে ওই ছাত্রী সহ বাড়ির সবাই যার যার মতে করে ঘুমিয়ে পড়ে।
ধর্ষিতা ছাত্রী নিফা (ছদ্মনাম) সাংবাদিকদের জানান, সেই দিন (২৫ জুন ) গভীরে রাতে ঘরের দরজার শিকল খুলে স্থানীয় চাকমা পাড়ার তিন চাকমা যুবক যথাক্রমে চোয়াইনসুর ছেলে লাতু চাকমা, কেজাইয়ংনের ছেলে মঙ্গলা চাকমা ও রবিন চাকমার ছেলে তাইমং চাকমা ঘরে ডুকে পড়ে। এই চাকমা তিন যুবককে দেখে বাড়ির সবাইা চিৎকার করলে মঙ্গলা চাকমা ও তাইমং চাকমা মিলে ওই ছাত্রীর মাকে বেধেঁ রাখে। ছাত্রীক্রে বেঁেধে এর মধ্যে লাতু চাকমা প্রথমে ছাত্রীর গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবে পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।
শিশু ছাত্রী আরো জানান, ওইদিন রাতে অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল, পাশের কেউ তাদের চিৎকার শুনেনি। ভোর রাতে বৃষ্টি কমলে তাদের চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায় বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ধর্ষিতা ছাত্রী।
ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও কেন তারা থানায় কোনো মামলা করেনি এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্ষিতার মাতা গুল চাম্বা জানান, আমরা প্রথমে ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক কে জানাই। তার কাছে আমরা গরীব বলে কোনো সুবিচার না পেয়ে, পরের দিন মেয়েকে সহ আমরা উখিয়া থানাতে যাই।
থানার একজন পুলিশ অফিসার (ঠিক মতো অফিসারের নাম বলতে পারেনি) আমাদেরকে একটি মামলা করতে বলেন।
কিন্তু আমাদের কাছে টাকা না থাকায় কোনো মামলা না নিয়ে, ওই পুলিশ অফিসার আমাদের অভিযোগটি ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে শালিশের জন্য পাঠিয়ে দেন। এতে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে বিষয়টি দুইদিন পর হলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছি।
এদিকে, ২৮ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষকদের আটক অভিযান চালান উখিয়া ইনানী ফাঁড়ির পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া গ্রামে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই মো. আনিছসহ একদল পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযান চালাতে গেলে চাকমারা চারদিকে ঘিরে ফেলে এবং সুমন চাকমা নামের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি পুলিশকে বাঁধা দেয়। পরে ধর্ষক লাতু চাকমাকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
আটক লাতু চাকমাকে উখিয়া থানায় সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানান ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই মো. আনিছ ।
এব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানান, আমি ঢাকা থেকে থানায় এসেছি ২৬ জুন সন্ধ্যায়। এই রকম কোনো মামলার বিষয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি, তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি ভিকটিম পরিবারটি থানায় কার কাছে এসেছিল, আর উক্ত ঘটনার ব্যাপারে মামলা করলে ভিকটিম পরিবারকে যতাযত আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ধর্ষিতা ছাত্রীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পাখি আক্তার জানান, আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রীটি ন্যায় বিচার পেতে যতাযত আইনি সহায়তা করব।
এই নির্মম ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই রকম কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি বলে জানান। তবে এই ঘটনার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে দোষীদের বিরুদ্ধে যতাযত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ধর্ষিতা শিশু ছাত্রী নিফা (ছদ্দনাম) ও তার মা উক্ত ঘটনার সুষ্ট বিচার পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।