ঢাকা, সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ , , ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০১৯ ১২:১৫ দুপুর

দিল্লি (ভারত) :: তাকে বলা হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। আগের জাতীয় নির্বাচন বা বিধানসভা নির্বাচনগুলোর সময় দলের প্রচারণা বা সমাবেশে দেখা গেলেও সরাসরি সাংগঠনিক কোনো দায়িত্ব নেননি কখনো। জাতীয় সংসদ বা লোকসভা নির্বাচনের কয়েকমাস আগে সেই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে নেমে পড়লেন রাজনীতির মাঠে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

আজ (২৩ জানুয়ারি) প্রিয়াঙ্কাকে এই পদে অধিষ্ঠিত করে তাকে উত্তর প্রদেশ পূর্বাঞ্চলের ‘ইনচার্জ’র দায়িত্ব দেন রাহুল। এই অঞ্চলেই কংগ্রেসের সবচেয়ে ‘বড় মাথা ব্যথা’ প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদীর আসন, এখানেই বিজেপির আরেক নেতা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লোকসভা আসন। বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ‘মূল খেলোয়াড়’কে কুপোকাত করতে প্রিয়াঙ্কাকে বেশ মাথা খেলিয়েই লড়তে হবে। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজনকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরা অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

৪৭ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কাকে শীর্ষস্থানীয় এই পদে দায়িত্ব দিয়ে বুধবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি শুধু দু’মাসের জন্য তাকে পাঠাচ্ছি না। উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য পাঠানো হচ্ছে তাকে।’

প্রিয়াঙ্কার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও চালচলনের মধ্যে অনেকে তার দাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দেখতে পান। যদিও ২০০৪ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর এতোদিন ধরে মা সোনিয়া ও ভাই রাহুলের আসনেই (উত্তর প্রদেশের আমেথি ও রায়বেরেলি) নিজেকে আবদ্ধ রেখেছিলেন দুই সন্তানের জননী প্রিয়াঙ্কা। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৮০টি আসনই উত্তর প্রদেশে। সেজন্য সরকার গঠনে উত্তর প্রদেশকে ‘কেন্দ্র’ হিসেবে ধরা হয়। আগেরবারের নির্বাচনে এই রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছিল কংগ্রেসের। এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই এবার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও প্রচারণা চালাতে উত্তর প্রদেশকে দুই অঞ্চলে বিভক্ত করেছে কংগ্রেস। রাজ্যের পূর্বাঞ্চল সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রিয়াঙ্কাকে। আর পশ্চিমাঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জ্যাতিরাদিত্য শিন্ডিয়াকে। কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, প্রিয়াঙ্কাকে উত্তর প্রদেশের ময়দানে নামানোর ক্ষেত্রে রাহুলের যেমন মোদী-আদিত্যনাথের মতো ‘হেভিওয়েট’কে কুপোকাতের পরিকল্পনা আছে, তেমনি আছে কংগ্রেসকে ছাড়াই রাজ্যের আঞ্চলিক দল বহুজন সমাজ পার্টির নেতা মায়াবতী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের জোট গঠনের দৌড়ঝাপের প্রতি পাল্টা চ্যালেঞ্জও।

প্রিয়াঙ্কার স্বামী ব্যবসায়ী রবার্ট ভদ্র হরিয়ানা ও রাজস্থানে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতিতে তদন্তাধীন রয়েছেন। যদিও অভিযোগ এবং তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আসছে কংগ্রেস। তবে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার এই সাংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন রবার্ট। বলেছেন সবসময়ই প্রিয়াঙ্কার পাশে থাকবেন তিনি। কংগ্রেসের কর্মীরা মনে করেন, বিগত লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের আসনগুলোতে বিপর্যয়ের পর ২০১৭ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেস জোট বেঁধে যে ভোট করেছে, সেখানে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা পালন করেন প্রিয়াঙ্কা। তাছাড়া কংগ্রেসের যে সম্মেলনে রাহুলকে দলের প্রধান করা হয়, সেই বৈঠকও প্রিয়াঙ্কাই মা সোনিয়ার সঙ্গে মিলে তদারকি করেছেন বলে মনে করা হয়।প্রিয়াঙ্কার এই দায়িত্ব গ্রহণে বিজেপি তোপ দেগেছে রাহুল গান্ধীকে। ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র সামবিত পত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাহুল ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন প্রিয়াঙ্কাকে ক্রাচ (পঙ্গু লোকের যষ্টি) হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা কি পরিবারের বাইরে কাউকে পেলো না?’

বিজেপি নাখোশ হলেও কংগ্রেসের নেতা, কর্মী, সমর্থকরা এবারের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। গত ডিসেম্বরে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা ও মিজোরামের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেস যে সাফল্য দেখিয়েছে, তাতে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ রাহুলের দলের পালে হাওয়া লাগিয়েছেই বলা যায়।