ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , , ৮ মুহররম ১৪৪০

কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮ ১:২৯ দুপুর

চকবাজার থানার বাদুরতলা জঙ্গিশাহ মাজার এলাকায় হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়ণরত এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে বখাটেরা। এ ঘটনায় ধর্ষকসহ ৫ বখাটেকে গ্রেফতার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। সোমবার (৯ জুলাই) রাত ৮টায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত চকবাজার থানার ওসি আবুল কালামের নির্দেশনা এবং সেকেন্ড অফিসার এসআই মহিদুল আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। থানার এসআই ইয়াসির আরাফাত, এসআই আবুল কালাম এবং এসআই কামাল হোসেন অভিযানে ছিলেন।

আসামিরা হল- চকবাজারের বাদুরতলা জঙ্গিশাহ বাড়ীর মৃত ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মোঃ মহিউদ্দীন (২২), বাদুরতলার মুন্সেফ আলীর বাড়ীর মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ধর্ষক সাইমুন ইসলাম সাকিব (২২), বাদুরতলা জঙ্গীশাহ বাড়ীর মৃত আবু নাছেরের ছেলে আসিফ ইকবাল (২৫), চান্দগাঁও থানার বারইপাড়া ছত্তার মেম্বারের বাড়ীর মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে রাজবির হোসেন নয়ন (২২) এবং একই এলাকার হাজী রমজান আলীর বাড়ীর আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন আকাশ (২২)। আরেক আসামি আহমেদ সেহেজাদ তারেক (২২) পলাতক রয়েছে।

থানা পুলিশ এবং মামলা সূত্রে জানা যায়, জঙ্গিশাহ মাজার এলাকায় আলম ভিলা (গ্যাস কোম্পানীর বিল্ডিং) চর্তুথ তলার ভাড়া বাসায় থাকতো মেয়েটি। জনৈক এক শিক্ষক বাদীকে বাসায় বিসিএস পরীক্ষার জন্য গণিতের প্রাইভেট পড়ায়। এ নিয়ে এলাকার কিছু বখাটে তাকে বিভিন্নভাবে উত্যেক্ত করত। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় বিষয়টি তার বন্ধুকে জানানোর জন্য বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। আগের ন্যায় সাড়ে ৫টায় গণিতের শিক্ষক কলেজ ছাত্রীকে পড়াতে বাসায় যায়। বান্ধবীর বন্ধু মুনতাসির ফরহাদ (২৪), শিক্ষক শিক্ষক এস এম মনছুরুল হক (২৯) বাসায় আসার পরে এলাকার বখাটেদের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন তারা। আলোচনার এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী অপমানে কান্না করতে থাকেন।

এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে হঠাৎ বাসার দরজা ধাক্কায় বখাটেরা। ডিবি পরিচয়ে ঘরে ঢুকে তারা। ঘরে ঢুকে সাথে সাথে ৫ জন যুবক বাদীকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে বাসায় থাকা প্রাইভেট শিক্ষক ও বন্ধুকে মারধর করে বান্ধবীর রুমে আটকে রাখে। বান্ধবী ও বাদীকে অন্য বেডরুমে নিয়ে যায় এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতে থাকে।

নিজেদেরকে ডিবি পুলিশের লোক এবং বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। একপর্যায়ে বাসার মালামাল তছনছ করে ফেলে। বাদী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সাকিব নামের এক যুবক সময় দিতে বলে। সাকিব ও তারেক বাদীকে হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারেক বাদিনিকে ওড়না দিয়া দুই হাত বেঁধে শ্লীলতাহানি করে। এরপর সাকিব মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় একজন মোবাইলে বাদির নগ্ন ছবি তোলে। এরপর আসামিরা ৫টি মোবাইল ফোন একটি ল্যাপটপসহ নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, বাদিনির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে আমরা ৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।