ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ , , ১৩ রজব ১৪৪০

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ২ বছর ধরে নাই চক্ষু, নাক, কান ও গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

ফরহাদ আকন্দ, স্টাফ রিপোর্টার । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ ১:৫৫ দুপুর

প্রায় দুই বছর ধরে চক্ষু এবং নাক, কান গলার কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে। আর আজ পর্যন্ত এ হাসপাতালে দেওয়াই হয়নি চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগের কোন চিকিৎসককে। এসব রোগের চিকিৎসক এই হাসপাতালে না পাওয়ায় প্রতিবছর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স, গাইবান্ধা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপ-স্বাস্থ কেন্দ্র এবং গাইবান্ধা ও বাদিয়াখালী মাতৃসদন থেকে পাঠানো হাজার হাজার রোগী।

জেলা হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ২০০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল অনুমোদন না হওয়ায় ১০০ শয্যার জনবল নিয়েই দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছে বছরের পর বছর ধরে। আবার সেই ১০০ শয্যার মধ্যেই নেই বিভিন্ন রোগের সিনিয়র কনসালটেন্ট সাতজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট পাঁচজন, একজন করে মেডিকেল অফিসার ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার এবং আটজন সহকারী সার্জনসহ বিভিন্ন পদের জনবল।

গত ২৬ জানুয়ারি ফুলছড়ি উপজেলার একটি চর থেকে চোখে আঘাত পাওয়া ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের এক শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন দুই ব্যক্তি। তারা রাত আটটার দিকে বিভিন্নস্থান ঘুরে গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘড়ার মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালে যান। সেসময় এটি বন্ধ থাকায় তাদেরকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে এক চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। তারা আক্ষেপ করে বলেন, এটার নাম হাসপাতাল হলে বন্ধ কেন থাকবে। আর হাসপাতাল না হলে চক্ষু হাসপাতাল নাম লিখবে কেন। জেলা হাসপাতালে চক্ষু সমস্যার কোন চিকিৎসক না থাকায় তারা এভাবেই সেদিন ভোগান্তির শিকার হন। পৌর এলাকার জুম্মাপাড়ার আলমগীর হোসেন বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চর্ম রোগের সমস্যার কারণে আন্টিকে নিয়ে গিয়েছিলাম জেলা হাসপাতালে। গিয়ে শুনি এ রোগের চিকিৎসক নেই। পরে কোন চিকিৎসককে না দেখিয়েই ফেরত আসতে হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ এসব চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এতে করে আর্থিকভাবে লোকসান ও নানান সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। অথচ এসব রোগের চিকিৎসক যদি জেলা হাসপাতালেই থাকতেন তাহলে রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তির শিকার হতনা। সন্ধানী ডোনার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র রায় বলেন, চোখ ও নাক, কান গলা এবং চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগের কোন চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা চিকিৎসককে না পেয়ে ফেরত যান। পরে বেশি টাকা ব্যয় করে রোগীদেরকে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে হয়। অনেকেই হয়ত আবার চিকিৎসকের কাছে যায়ই না।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ খ ম আসাদুজ্জামান বলেন, এসব শুন্য পদের তালিকা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে নেই চক্ষু ও নাক, কান, গলার কোন চিকিৎসক। এ ছাড়া আজ পর্যন্ত চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগের কোন চিকিৎসককে দেওয়াই হয়নি এই জেলা হাসপাতালে। জরুরীভিত্তিতে এসব রোগের চিকিৎসক দরকার আমাদের।