ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

গাজীপুরে ষাঁড়ের মূল্য ১৫ লাখ!

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৮ ৩:৫০ দুপুর

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামে জন্ম ‘লক্ষ্মী বাবু’ নামে ষাঁড়ের। লক্ষ্মী বাবুর বয়স যখন ৮ মাস তখন ওই গ্রামের মাঝি বাড়ির সৌদি প্রবাসী আবু বকর মাঝির স্ত্রী বেরেকা বেগম ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেন ফ্রিজাম জাতের ষাড় গরুটি। বাড়িতে এনে সবাই মিলে তার নাম দেন লক্ষ্মী বাবু।

দুই বছর লালন-পালনের পর ছোট্ট লক্ষ্মী বাবু আর ছোট্টটি নেই। লক্ষ্মী বাবু এখন বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। তাকে দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছে মানুষজন। কেউ কেউ আবার শহর থেকে গাড়ি নিয়ে ছুটে আসছেন লক্ষ্মী বাবুকে কিনতে। তবে মালিক রেবেকার মনঃপূত না হওয়ায় এখনও বাড়িতেই আছে লক্ষ্মী বাবু। সঠিক মূল্য পেলে তবেই লক্ষ্মী বাবুর রশি উঠবে অন্যের হাতে। রেবেকার প্রত্যাশা ১৫ লাখ টাকা। তবে সেটা দু’পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

প্রবাসী আবু বকর মাঝি ও রেবেকার সংসার জীবনে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে বাড়ির পাশেই। এখন বাড়িতে আছে এক মেয়ে ও ছেলে। ছেলেটা স্থানীয় ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ছে আর মেয়েটা পড়ছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। রেবেকা দুই ছেলে-মেয়ের যতœ যেভাবে করেন ঠিক তেমনই যতœ করছেন লক্ষ্মী বাবুরও। নিয়ম করে গোসল করানো, খাওয়ানো, অসুস্থ্য হলে ডাক্তার দেখানো, ওষুধ খাওয়ানো, একটু গরম পড়লে বাতাসের ব্যবস্থা সবই করছেন রেবেকা। তার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন শ্বশুর কুদরত আলী মাঝি (৭০) ও ছেলে তওহিদ মাঝি (১৪)।

স্থানীয়রা জানান, এত বড় বিশালাকৃতির ষাড় আশপাশের কোনো উপজেলা বা জেলায় নেই। প্রায় ৩৫ মণ ওজনের এই ষাড়টি এবারের কোরবানী ঈদ উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন স্থানে বসা গরুর হাটের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে। তবে ষাড়টি কিনতে ক্রেতার যেভাবে বাড়িতে ছুটে আসছে তাতে মনে হচ্ছে গরুর হাটের দেখা লক্ষ্মী বাবু নাও পেতে পারে।

রেবেকা জানান, স্বামী প্রবাসে থাকেন। তার একার রোজগারে সংসার খুব একটা ভালো চলছিল না। তাই শখের বসে তিনি লক্ষ্মী বাবুকে লালন-পালন শুরু করেন। প্রতিদিন খাবার তালিকায় ভূষি, সবজি, ফল ছাড়াও আছে সবুজ ঘাস।

রেবেকা জানান, দুই বছর ধরে লক্ষ্মী বাবুকে লালন-পালন করছেন তিনি। একদিনও অসুস্থ হয়নি। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন নিয়মত বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তারা মূলত আসতেন ষাড়টির সঠিক পরিচর্যা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য।

তিনি আরো জানান, প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে লক্ষ্মী বাবুকে দেখার জন্য। তবে তিনি একেবারেই বিরক্ত হচ্ছেন না। বরং যারা আসছেন তাদের সবাইকে সহযোগিতা করছেন।