ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ , , ১৯ রজব ১৪৪০

চলে গেলেন বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ প্রতিম সাহিত্যিক নীরেন্দ্রনাথ

কলকাতা (ভারত) করেসপন্ডেন্ট । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ ৪:৩১ দুপুর

কলকাতা :: চলে গেলেন সাহিত্যিক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি স্ত্রী’কেও হারান তিনি, ফলে একাকীত্বও হয়তো গ্রাস করেছিল তাঁকে। সারা বাংলা যখন বড়দিনের উৎসবে সামিল, তখনই সবাইকে ছেরে চলে গেলেন বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদ প্রতিম সাহিত্যিক।স্বনামধন্য কবির প্রয়াণে যেন বড়দিনের ছন্দ কাটল৷ ‘কলকাতার যিশু’ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী যিশুর জন্মদিনেই পাড়ি দিলেন অসীম-লোকে। বাংলা সাহিত্য জগতের মহীরূহ পতন হল বড়দিনে।

তাঁর লেখা ছোটগল্পও ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আর তাঁর ‘অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল’, আর ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়’- বাংলায় প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছিল কবিতার বেড়াজাল ছাড়িয়ে। আসলে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে কবিতা ছিল মাতৃভাষা। তিনি নিজেই বলতেন, কবিতা থেকে সময় চুরি করে আমি গদ্যকে দিচ্ছি। আবার তিনি এমনও বলতেন কবিতা লেখায় আমার কল্পনার জোর তত নেই। আমি চার পাশে যা দেখি, যা শুনি, যা অভিজ্ঞতা হয়, তা-ই আমার কাছে কবিতা হয়ে উঠেছে। ১৯৫৪ সালে তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ‘নীল নির্জন’ তাঁর প্রথম কবিতার বই। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩০। তারপর একে একে ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’, ‘আজ সকালে’- এমন বহু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। সাহিত্যে অ্যাকাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তাঁর জন্ম অবিভক্ত ভারতের ফরিদপুরে। পাঠশালা থেকে তাঁর গঠন শুরু হয়েছিল। ১৯৩০-এ কলকাতায় এসে মিত্র ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবাসী ও সেন্ট পলস কলেজে তাঁরা পড়াশোনা। কর্মজীবনে প্রবেশ ১৯৫১ সালে। আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি নেন নীরেন্দ্রনাথ। ছোটবেলা থেকেই ছড়া লিখতেন। শিশু সাহিত্য থেকে শুরু করে সাহিত্যজগতের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন তিনি। একাধারে তিনি ছিলেন শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গোয়েন্দা-গল্পকার, ভ্রমণ কাহিনি লেখক, অন্যদিকে সম্পাদক আবার বানান বিশেষজ্ঞও।