ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , , ৮ মুহররম ১৪৪০

চাঁদার দাবিতে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট : ৮ জনকে আটক পরদিনই জামিনে মুক্ত

মহসিন মিলন। বেনাপোল প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ১:৫০ দুপুর

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার গিলাপোল গ্রামে চাঁদার দাবিতে কুখ্যাত তরিকুল ইসলাম মিলন বাহিনী সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সলমন দাসের(৪৩) বাড়িতে হামলা ,ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট’র ঘটনার পর থেকে নিরাপওাহীনতায় রয়েছে তার পরিবার। তবে আজ বুধবার দুপুরে যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে খৃস্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল সলমন দাসের বাড়ি পরিদর্শন করে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে।

নিরাপওার কারনে সংখ্যালঘু এই পরিবারের কলেজগামী ছাত্রী কন্ডলিজা শিলার কলেজ যাওয়া বন্ধ হয় গেছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জিম্মী হয়ে পড়েছে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকীর কারনে। হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে আসামী করে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ ৮ জনকে আটক করলেও পরদিনই তারা জামিনে বাড়ি আসে।

হামলাকারী তরিকুল ইসলাম মিলন উলাশী পূর্বপাড়া গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে ও শার্শা উপজেলা যুবলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও উলাশী ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।অসহায় পরিবারটির ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে সলমন দাস মামলার তদন্তকারী অফিসার সমির কুমার হোরকে অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি বরং মোটর সাইকেল যোগে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তার বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। হামলার পর থেকে এখনও পর্যন্ত শার্শা থানার ওসি ও টিএনও ঘটনাস্থলে যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সলমন দাস আরো বলেন, তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য মিলন বারবার হুমকী দিচ্ছে।আহত সলমন উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামের জুরান দাসের ছেলে। ২০০৮ সালে থেকে মিলন মেম্বর উলাশী গ্রামে ৭০/৮০ বিঘা জমির ওপর নীলকুঠি নামে একটি পার্ক তৈরী করে। পরে সেখানে স্কুল কলেজগামী ছাত্র/ছাত্রী সহ বিভিণœ স্থান থেকে আগত গৃহবধুদের দিয়ে শুরু করে দেহ ব্যবসা। ৩৩ জন গ্রামবাসীর ৩৫ বিঘা জমি আতœসাত করে পার্ক’র সাথে সংযুক্ত করে। সেই সাথে উলাশী বাজারে জিয়া মঞ্চের জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করে কালু ও দিপকের কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। দীর্ঘদিন ধরে মিলন বাহিণী সলমনের কাছ থেকে চাদা দাবি করে আসছিল, চাদা না দেয়ায় পরিবারকে নির্যাতন করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

পুলিশ ও সলমন দাস জানান, স্থানীয় কুখ্যাত মিলন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সলমন দাস চাদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে দশটায় কুখ্যাত মিলন বাহিনী তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ু তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও মারপিট করে ঘরে রক্ষিত জমি বিক্রয়ের নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৮ভরি স্বর্ণালংকার, ৩টি দামি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।চলে যাওয়ার সময় তারা বাড়ির আসবাবপত্র ও টিভি ভাংচুর করে।

মিলন বাহিনীর ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য ভাইপো আশিক, মমিন, আশরাফুল, ম্যানেজার শরীফ, লালচাঁন, ড্রাইভার ভূট্টোসহ সলমনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর চালানো হয়। এ সময় তার বাবা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে লাঞ্চিত করে তারা। গ্রামের লোকজন ভয়ে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আসার পরপরই তারা সটকে পড়ে। কাশেম শিকার ইউপি সদস্য এর ঘটনার মদদদাতা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
২০১৬ সালে এই বাহিনীর সদস্যরা আমার শালি মায়া মারিয়া কর্মকারকে আগুন ধরিয়ে মারার চেষ্টা করেছে। ঐ মামলায় এখনও কোন আসামী ধরা না পড়ায় তারা ্ ধরনের হামলা ও লুটপাট করতে সাহস পায়।
উলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আয়নাল হক বলেন, আমি ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে পুলিশকে জানাই এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌছাই। মিলন বাহিণী অবৈধভাবে একটি পার্ক চালায়। যেখানে সব সময় অনৈতিক কর্মকান্ড চলছে। আমি বরাবরই এর প্রতিবাদ করে আসছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিয়ার রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার সাথে জড়িত ৮ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা হয়েছে শার্শা থানায় মামলা নং:১৭ এবং তারিখ