ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ , , ৩০ মুহররম ১৪৩৯

চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন ৪ অক্টোবর 

নিউজ ডেস্ক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ ২:০১ দুপুর

সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছরে বৃদ্ধি করণের জন্য সারাদেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে। গত কিছুদিন আগে ৩৫ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ (বাসাছাপ) এর সভাপতি মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আলী কমিটির সর্ব সম্মতিক্রমে দেশের সকল বিভাগ ও অধিকাংশ জেলায় সংশ্লিষ্ট সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে মানব বন্ধন, স্থানীয় প্রভাবশালী সাংসদদের স্মারকলিপি প্রদান সহ নানা রকম কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেন।

গত ১৯ আগস্ট খুলনা ও ১৭ আগস্ট রংপুরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সেখানকার জেলা কমিটি মানব বন্ধনের আয়োজন করেছিল। সেখানে বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন মহল মানব বন্ধনে অংশ গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৪ অক্টোবর বগুড়াতে এস,পি ব্রীজ সংলগ্ন, (নীট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সামনে) বউ বাজার সকাল নয়টায় এক বিশাল মানব বন্ধনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ (বাসাছাপ) এর বগুড়া জেলা কমিটি।

বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি কে, এম হাসান, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাফিন খান, যুগ্ম সম্পাদক আল-আমিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রহমান সকলের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তারা সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন হাই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে বৃহৎ পরিসরে এক মানব বন্ধনের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এ জন্য ইতোমধ্যে তারা স্থানীয় সকল হাই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছে এবং আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাশাপাশি বৃহত্তর বগুড়া ও এর আশপাশে সকল উচ্চ শিক্ষিত বেকার ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহনের জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এছাড়াও সেখানে আইনজীবী মহল, ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকবৃন্দ, বিভিন্ন সচেতন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মহল উপস্থিত থাকবেন এবং তারা ৩৫ দাবীর পক্ষে বিভিন্ন যৌক্তিক দিক তুলে ধরে অতিশীঘ্রই এর বাস্তবায়নের জন্য সরকার বরাবর জোর দাবি জানাবেন।

মূলত বাংলাদেশে সরকারী চাকরিতে প্রবেশে বয়সের সীমাবদ্ধতা বাস্তবতার নিরীখে একটি মারাত্মক সমস্যা। দেশের প্রায় ৮০% মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। মোট শ্রম শক্তির একটা বড় অংশ কর্মহীন। অথচ নিম্ন মধ্যম আয়ের এ দেশে পড়াশুনার লক্ষই হল কর্মসংস্থান। প্রতিটি পরিবার তার সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে যে কি পরিমাণ কাঠ-কয়লা পোড়ায় তা কেবল ভুক্তভোগী পিতা-মাতারাই ভাল জানেন। পাশাপাশি স্বপ্ন দেখেন তাদের সন্তান একদিন সরকারী কোন প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবী হবে, পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করবে, নিজ যোগ্যতায় স্ব-গৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কিন্তু শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ পরিবারের সেই লালিত স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। যার মূল প্রতিবন্ধক ৩০ নামের সীমাবদ্ধ প্রাচীর। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করতে ২৭/২৮ বছর সময় লেগে যায়। সেশন জট, কোটা প্রথা সহ অন্যান্য আভ্যন্তরীণ সমস্যা এর মূল কারণ বলে জানিয়েছেন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবিগঞ্জ থেকে নামজুল হোসেন।