ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ১ রবিউস সানি ১৪৪০

ছেলেকে নিয়ে মুখ খুললেন লাদেনের মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৮ ৭:৩৮ সকাল

নিহত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম কোন সংবাদপত্রকে দেয়া তার প্রথম সাক্ষাতকারে বলেছেন, ওসামা ছিলেন একজন ভালো ছেলে। সে যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সময় মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়ে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয়েছিলেন।

ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার ভাষায় একটি কাল্ট বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়েন এবং পুরোপুরি বদলে যান লাদেন। তিনি আরও বলেন, তিনি তার ছেলেকে বার বার সাবধান করেছিলেন ওই গ্রুপটি থেকে দূরে থাকার জন্য। কিন্তু ওসামা বিন লাদেন কখনো তার মাকে জানাননি যে, তিনি কি করছেন। কারণ তার মাকে তিনি খুবই ভালোবাসতেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চারটি ছিনতাই করা বিমান দিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং ওয়াশিংটনে পেন্টাগন ভবনে হামলার ঘটনায় দু’হাজারের বেশি লোক নিহত হয়। ওই হামলার পেছনে ওসামা বিন লাদেনকেই দায়ী করা হয়।

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে ২০১২ সালে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।
গার্ডিয়ানের সাক্ষাৎকারে বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম বলেন, কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ার সময় ওসামা বিন লাদেন কিছু লোকের সংস্পর্শে আসেন এবং তারাই তার ছেলের মগজ ধোলাই করে। তখন তার বয়স ছিল ২০য়ের কোঠায়।

আলিয়া ঘানেমের কথায়-বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই লোকেরাই তাকে বদলে দেয়, সে একেবারে অন্যরকম মানুষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এটা ছিল একটা কাল্ট। আমি তাকে সবসময়ই বলতাম ওদের থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু সে কখনো স্বীকার করেনি সে কি করছে, কারণ আমাকে সে খুবই ভালোবাসতো।

১৯৮০য়ের দশকে ওসামা আফগানিস্তানে চলে যান রাশিয়ার দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তার ভাই হাসান বলেন, প্রথম দিকে যারই তার সাথে দেখা হয়েছে সেই তাকে সম্মান করেছে। শুরুর দিকে আমরাও তাকে নিয়ে গর্বিত ছিলাম। এমনকি সৌদি সরকারও তাকে সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখতো। তারপরই সে হয়ে উঠলো মুজাহিদ ওসামা।

তার মা ঘানেম বলছিলেন, ওসামা স্কুলে ভালো ছাত্র ছিল, পড়াশোনা ভালোবাসতো। সে তার সব টাকা-পয়সা আফগানিস্তানের পেছনে খরচ করেছে। পারিবারিক ব্যবসার ছুতো করে সে সন্তর্পণে কোথায় কোথায় চলে যেতো।

তিনি কি কখনো সন্দেহ করেছিলেন যে তার ছেলে জিহাদি হয়ে উঠতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে ঘানেম বলেন, আমার মনে কখনো এমন ভাবনা আসেনি। তবে যখন এসব জানলাম তখন আমরা খুব ভেঙে পড়েছিলাম। এমনটা হোক আমি চাইনি। কেন সে এভাবে সবকিছু ত্যাগ করতে যাবে?

বিন লাদেনের পরিবার বলছে, তারা ওসামাকে সর্বশেষ দেখেছেন ১৯৯৯ সালে আফগানিস্তানে। কান্দাহার শহরের বাইরে তাদের ঘাঁটিতে দু’বার তারা দেখা করতে গিয়েছিলেন। জায়গাটা ছিল বিমানবন্দরের কাছে। ওই জায়গাটি তারা রুশদের হাত থেকে দখল করেছিল।

লাদেনের মা বলেন, আমাদের পেয়ে সে খুব খুশি হয়েছিল, আমাদের প্রতিদিন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখাতো। একটা পশু জবাই করে একটা ভোজ দেয়া হলো। তাতে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হলো। ওসামা বিন লাদেনের বাবা ইয়েমেনি হলেও তার মা আলিয়া ঘানেমের জন্ম সিরিয়ার একটি শিয়া পরিবারে।

তিনি সৌদি আরবে আসেন ১৯৫০য়ের দশকের মাঝামাঝি। ওসামার জন্ম হয় ১৯৫৭ সালে। তিন বছর পর ওসামার বাবাকে তালাক দেন তিনি। বিয়ে করেন আল-আত্তাসকে। তিনি বিন-লাদেনদের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যেরই একজন প্রশাসক ছিলেন।

ওসামার ভাই আহমদ গার্ডিয়ানকে বলেন, নাইন-ইলেভেনের ১৭ বছর পরও তাদের মা ওই ঘটনার জন্য ওসামাকে দোষ দিতে চান না। তিনি দোষ দেন তার চারপাশের লোকদেরকে। আহমদ বলেন, তাদের মা ওসামাকে শুধু ভালো ছেলে হিসেবেই জানেন, জিহাদি ওসামাকে তার কখনো জানা হয়নি।

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেন যখন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে নিহত হন- তখন তার যে স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন তারা এখন জেদ্দায় থাকেন। তাদের শহরের মধ্যে চলাফেরার অধিকার আছে তবে দেশের বাইরে যাবার অনুমতি নেই। আলিয়া ঘানেম বলেন, আমি ওসামার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে প্রায় সপ্তাহেই কথা বলি। তারা কাছেই থাকে।

ওসামা বিন লাদেনের সর্বকনিষ্ঠ ছেলে ২৯ বছর বয়সী হামজার কথা বিন লাদেন পরিবারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। হামজা এখন আফগানিস্তানে আছেন বলে ধারণা করা হয়। গত বছর তাকে একজন বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাকে আল কায়েদার বর্তমান নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছত্রছায়ায় তার পিতার উত্তরসূরী বলে মনে করা হয়।

হাসান বলেন, হামজা বলেছিল, সে তার পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আমি তার কথা আর শুনতে চাই না। তার সাথে দেখা হলে আমি বলতাম আল্লাহ যেন তোমাকে পথ দেখান। তুমি যা করছো তা নিয়ে দু’বার ভাবো। তুমি তোমার আত্মার এক ভয়ংকর অংশে পা ফেলছো, তোমার বাবার পথ নিও না।