ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

জর্জিয়া বাঙালিদের জন্য তেমন সুখকর নয়

মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, জর্জিয়া থেকে । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০১৮ ৭:২৭ দুপুর

( কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবাসীদের একটি টিম জর্জিয়া সফরে রয়েছেন। তারা দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এসব মানুষদের সাথে কথা বলে লেখক সিএনএন বাংলাদেশ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরছেন নানা তথ্য নির্ভর অভিজ্ঞতা। আজ প্রকাশ করা হলো জর্জিয়া ট্যুরের প্রথম পর্ব।।)

জর্জিয়া থেকে ‌‌© আমরা পত্রিকায় প্রায়ই দেখি জর্জিয়া বাংলাদেশীর জন্য অন-এরাইভেল। কথাটা আংশিক সত্য কিন্তু পুরোপুরী নয়। কারণ সরাসরি আপনি বাংলাদেশ থেকে আসলে ভিসা তো দিবেই না উল্টো ফিরতি ফ্লাইটে ফেরত পাঠাবে। অনেক বাংলাদেশী, পাকিস্তানী, সিরিয়াদের এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত পাঠায় কারণ তারা ট্যুরিস্ট হিসেবে ঢুকে আর ফিরে যায় না।

আর যাদের কাতার,আমিরাত,ওমান, বাহরাইন ও কুয়েতের রেসিডেন্ট পারমিট আছে তাদেরই ভিসা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। হোটেল বুকিং,রিটার্ন টিকেট ও ইন্সুরেন্স থাকলে এয়ারপোর্টে ভিসা দেয়ার সম্ভাবনা বেশী।

অনেক বাংলাদেশী লোক ইউরোপ যাওয়ার প্ল্যান করে
জর্জিয়া এসে আর মধ্যপ্রাচ্যে ফিরে যায় নি। তারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, বার ও ক্লাবে কমিশন ভিত্তিতে
কাজ করেন। কেউ আছে ইউরোপ যাওয়ার প্ল্যান নিয়ে আর কেউ আছে রেসিডেন্ট পারমিটের আশায়।
তবে ইউরোপ যাওয়া খুব একটা সহজ নয় এদেশ থেকে। কারণ ট্যুরিস্ট ভিসা ছাড়া রেসিডেন্ট পারমিট তারা খুব বেশী দেয় না কারণ এখানেও চাকুরীর যথেস্ট অভাব রয়েছে। নিজের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ চলে গেলে তিনি অবৈধ হয়ে পড়েন। কয়েক বছর শেষে ভাগ্য ভাল হলেই রেসিডেন্ট পারমিট কপালে জুটে।

যারা রেস্টুরেন্ট,হোটেল ও বারে চাকুরী বা কমিশন ভিত্তিতে কাজ করেন তারাও খুব ভাল নেই। কারণ সারাদিন গ্রাহকের আশায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া অন্য কোন কাজ এখানে নেই।

অনেক বাংলাদেশী লোক ইউরোপ যাওয়ার মিথ্যা আশায় পাঁচ-দশ লাখ টাকার বেশী খরচ করে জর্জিয়া এসে সর্বশান্ত হয়ে ফিরে যান। এখানে বাংলাদেশীর জন্য তেমন কোন ভাল চাকুরী নেই। রেসিডেন্ট পারমিটের ব্যবস্থাও নেই। এমনকি যারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে জর্জিয়া আসেন কাজের আশায় তারাও ভূল পথে পা দেন কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিমাণ টাকা সে রোজগার করতে পারবেন তার কাছাকাছিও এখানে সম্ভব নয়। জর্জিয়ার সাথে রাশিয়ার বর্ডার রয়েছে অনেক জায়গায়। রাশিয়ার বর্ডার অতিক্রম করা খুবই দুঃসাধ্য এবং বোকামির কাজ।

তাই ইউরোপ যাওয়ার আশায় জর্জিয়া আসার চিন্তা মাথা থেকেই বাদ দেয়া উচিত। যে টাকা দিয়ে
জর্জিয়া আসার প্ল্যান করেছেন সে টাকা দিয়ে দেশেও অনেক কিছু করা সম্ভব।

এখানে হোটেলের রুম ভাড়া,টেক্সী ভাড়া ও অন্যান্য খরচ খুবই কম একজন ট্যুরিস্ট এর জন্য। পাশাপাশি যারা চাকুরী করে বিভিন্ন হোটেল,রেস্টুরেন্ট ও বারে তাদের বেতনও খুব বেশী নয়। দুইজন জর্জিয়ান মহিলা একটি রেস্টুরেন্ট এ সকাল বিকাল ১২ ঘন্টা ডিউটি করে মাস শেষে জর্জিয়ান ৫০০-৫৫০ লারি পায় যা প্রায় ২০-২৫ হাজার বাংলাদেশী টাকায়।

যেখানে স্বয়ং জর্জিয়ানরা কাজের অভাবে বেকার বসে আছেন এবং কিছু লোক ভিক্ষা করছেন সেখানে ইউরোপ যাওয়ার আশা নিয়ে এই দেশে আশা
বোকামী নয় কি!!!

চলবে…