ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

জর্জিয়া : বেড়ানোর জন্য পারফেক্ট একটা গন্তব্য

মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৮ ১০:০২ সকাল

( কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবাসীদের একটি টিম জর্জিয়া সফরে রয়েছেন। তারা দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এসব মানুষদের সাথে কথা বলে লেখক সিএনএন বাংলাদেশ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরছেন নানা তথ্য নির্ভর অভিজ্ঞতা। আজ প্রকাশ করা হলো জর্জিয়া ট্যুরের দ্বিতীয় পর্ব।।)

জর্জিয়া থেকে :: ১৯৯১ সালে তারা স্বাধীনতা লাভ করে। অর্থনৈতিকভাবে  তেমন সমৃদ্ব না হলেও পর্যটন শিল্পে মোটামুটি প্রসিদ্ব একটি দেশ। রাজধানী তিবলীসির এয়ারপোট’ তেমন বড় নয় মোটামুটি তেমন ব্যস্ত এয়ারপোট’ও না।
তাদের পাশবর্তি দেশ রাশিয়া,তুরস্ক,আজারবাইজান,আর্মেনিয়া ও কাজাকিস্তান।

জর্জিয়ান পাসপোর্ট হোল্ডারেরা এক দেশ থেকে আরেক দেশে খুব সহজেই যেতে পারেন এমনকি রাশিয়া পার হয়ে ইউক্রেনেও তারা সহজেই যেতে পারে। সেনজেনভুক্ত যেকোন দেশে তারা অন এরাইভেল ভিসা পায়। এমনকি ইউরোপ,আমেরিকা কিংবা এশিয়ার যেকোন দেশে তারা সহজেই যেতে পারে।

রাশিয়া ও আজারবাইজান থেকে লোকজন আসে কাজের উদ্দ্যেশ্যে। যদিও রাশিয়ার সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই অনেকদিন ধরে। রাশিয়া যাওয়ার জন্য তারা সুইজারল্যান্ড এম্বাসী ব্যবহার করে।

জর্জিয়ানরা পরিশ্রমী এবং সৎ। তারা পরিশ্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক ছেলে কিংবা মেয়ে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘন্টা ডিউটি করে। চাকুরীর ক্ষেত্রে ফাকিবাজি কিংবা অসততা আমাদের চোখে পড়ে নি। চার দিনের সফরে অনেকবার টেক্সিক্যাব ব্যবহার করতে হয়েছে। এর মধ্যে একজন ড্রাইভারও আমাদের সাথে এমন কোন আচরণ করেনি যাতে আমাদের কস্ট হয় কিংবা আমাদের ঠকানোর জন্য কোন ছল চাতুরীর আশ্রয় নেয় নি। ট্যুরিজম দেশে প্রায় ড্রাইভারই সুযোগ পেলেই ছল চাতুরী করে কিন্তু জর্জিয়ানরা একটু ভিন্ন।

বেশীর ভাগ জর্জিয়ানরা মোটামুটি ইংরেজিতে কথা বলাতে পারদশী’। তাই টেক্সি কিংবা হোটেল বা রেস্টুরেন্টে তেমন কস্ট হবে না। ভাল একটি হোটেলে এক রাতের জন্য ৩০০০-৪০০০ টাকা পরিশোধ করলেই চলবে। টেক্সিক্যাব খুবই সস্তা।

এসব দেশ জনগনের টেক্সের উপরই চলে। প্রায় প্রত্যেক চাকুরীজীবি বা ব্যবসায়ীকে টেক্স প্রদান করতে হয় তার চাকুরীর প্রাপ্ত বেতন অথবা ব্যবসার মুনাফা থেকে। একজন সাধারণ নাগরিক তার বেতনের ১৫-২০% পরিশোধ করে পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী মুনাফার উপর ভিত্তি করে ৫-২০% মুনাফা প্রদান করতে বাধ্য।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত বেশীরভাগ মানুষই শিক্ষিত মার্জিত ও ভদ্র। আমরা এমন একটা সময়ে জর্জিয়ানরা এসেছি যখন দেশটি পালা’মেন্ট জর্জিয়ানরা নিয়ে ব্যস্ত। আর দুই দিন পরেই সংসদ নিবা’চন অনুস্টিত হতে যাচ্ছে। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট Giorgi_Margvelashvili নিয়ে খুব খুশী নয় বেশীরভাগ জর্জিয়ান। যতবারই তাদের দেশ সম্পর্কে কথা হয়েছে ততবারই সকলেই তাদের প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে ভাল কিছু বলেননি। তারা সকলেই পরিবর্তন চায়। দুই দিন পর নির্বাচন হলেও মূল রাজধানী কিংবা শহরে কয়েকটা বিলবোর্ড ছাড়া তেমন সভা সেমিনার মিটিং মিছিল একদম চোখে পড়ে নি।

জর্জিয়ায় লোকজনের জীবনযাত্রা প্রায় একই মানের। যেমন আমাদের দেশে কিছু লোক আছে খুবই ধনী আবার কিছু খুবই গরীব। এখানে খুবই ধনী খুবই গরীব তেমন নেই। প্রায় সবাই মধ্যস্তরেই বসবাস করে।

জজি’য়ায় প্রায় ৩৭ লক্ষ লোকের বসবাস তার মধ্যে ৮৭% জর্জিয়ান ৬% আজারবাইজান ৪.৫% আর্মেনিয়ান ও ৩% অন্যান্য দেশের লোকজন বসবাস করে। প্রায় ৭০ হাজার বগ’কিলোমিটার১০% মুসলিম ৮০% খ্রিস্টান ও বাকীরা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম অবলম্বন করে।

এখানে হোটেলের রুম ভাড়া, টেক্সী ভাড়া ও অন্যান্য খরচ খুবই কম একজন ট্যুরিস্ট এর জন্য। পাশাপাশি যারা চাকুরী করে বিভিন্ন হোটেল,রেস্টুরেন্ট ও বারে তাদের বেতনও খুব বেশী নয়। দুইজন জর্জিয়ান মহিলা একটি রেস্টুরেন্ট এ সকাল বিকাল ১২ ঘন্টা ডিউটি করে মাস শেষে জর্জিয়ান ৫০০-৫৫০ লারি পায় যা প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা বাংলাদেশী টাকায়।

একটি পরিবারের প্রায় সকলেই কোন না কোন কাজের সাথে জড়িত থাকে। দোকান,রেস্টুরেন্ট,হোটেল,
সুপারশপ এ জর্জিয়ান মহিলারাই বেশী। পুরুষদের বেশীর ভাগই ভারী কাজ,ড্রাইভিং ও অন্যান্য কাজ করে।

বিশ্বমানের ওয়াইন,বাদাম ও ফলমূল তারা উতপাদন করে ও রপ্তানী করে তাছাড়া জর্জিয়া ইউরোপ মহাদেশের সাথে রাশিয়া ও অন্যান্য সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেও প্রচুর অর্থ রোজগার করে। যেমন রাশিয়ার গ্যাস জর্জিয়া হয়েই ইউরোপে প্রবেশ করে। ট্যুরিজম সেক্টর বর্তমানে অনেকদূর প্রসারিত হয়েছে আজকাল।একজন ট্যুরিস্ট খুব সহজে নিরাপদে ও কম খরচে জর্জিয়া ভ্রমন করতে পারেন।