ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

জাতীয় নির্বাচন: ভোট উৎসবের Benefit কার গোলায় উঠে…?

অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৮ ১১:১৯ সকাল

:: জাতীয় জনকল্যাণ ফোরামের ২৫ দফা দাবি ::

সামনে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন আসে নির্বাচন যায়। কোন দল ক্ষমতায় আসে কোন দল ক্ষমতায় থাকে। নির্বাচনে সংঘাত হলে জনগণের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়, সংঘাতময় পরিবেশ হলে ভোটারদের ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংঘর্ষ হলে ভোটাররা আহত নিহত হয়। হাসি কান্নার উৎসবমুখর নির্বাচনে ভোটরদের ভাগ্যের কি পরিবর্তন হয়? এবার ভোটাররা তারই হিসাব করছেন। কারণ সুষ্ঠু, অর্ধসুষ্ঠু, অসুষ্ঠু নির্বাচনগুলির ব্যাপারে ভোটরদের অভিজ্ঞতা তিক্ত। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? নির্বাচন নামক উৎসবের Benefit কার গোলায় উঠে এটা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট। দুর্নীতিবাজদের গোলা ভরে যায় সম্পদে, ডলারে, বহু এপার্টমেন্ট ও বহু প্লটে, হিমালয় সমান ব্যাংক ব্যাল্যান্স দেশে বিদেশে। এখন এসব Open Secret । আপাতত এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব কিনা সেই প্রশ্ন ও তার জবাব দুইটাই জনগণের  কাছে আছে।

আমাদের অভিজ্ঞতা বলে বাংলাদেশের ভোটারদের প্রত্যাশা খুবই কম। তারা ভালভাবে খেয়ে-পড়ে বাঁচতে চায়, সন্তানদের শিক্ষার দোকানে নয় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ চায়, বাণিজ্যিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গলা কাটা ফিস দিতে  উজার হয়ে যাওয়া থেকে মুক্তি চায়, চাকুরীর নিরাপত্তা চায়, সরকারী বেসরকারী প্রশাসনের অফিসারদের হয়রানীমুক্ত থাকতে চায়, ন্যায্যমূল্যে খাদ্য দ্রব্য চায়, কসাই চিকিৎসক ও গলাকাটা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাঁচতে চায়, সামর্থ্য রেখার মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাই চায়। আমরা যে ই ক্ষমতায় থাকিনা কেন, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন ভোটারদের এই প্রত্যাশা পূরণ করা উচিৎ। ভোটারদের এই প্রত্যাশাগুলোর জন্যই বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষের অধিকার পূরণ করতে হবে আগামী দিনের জন প্রতিনিধিদের। ভোটারদের সেই প্রত্যাশার  একটি ফিরিস্তি‘‘ জাতীয় জনকল্যাণ ফোরাম’’ এর পক্ষে নীচে দেয়া হল:

২৫ দফা দাবী

১.       মাথাপিছু গড় আয় ১৭৫২ ডলার নয়, প্রান্তিক মানুষদের মাথাপিছু প্রকৃত আয় যেন ১৭৫২ ডলার হয় তার জন্য সর্বনিম্ন মজুরী বৃদ্ধি করতে হবে।

২.       ২৭ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে জাতীয় উন্নয়ন কৌশল পুনঃবিন্যাস করতে হবে।

৩.      সকল নাগরিকের জন্য ঘুষ ছাড়া ব্যাংক লোন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমসুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

৪.       ব্যাংক সমূহের আমানতের ৪০% বৃহৎ ঋণ, ৩০% ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ ((SME)) এবং ৩০% নারী, নতুন উদ্যোক্তাও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারণ করে দিতে হবে।

৫.      নতুন উদ্যোক্তদের সহজে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৬.      নারীদের ঋণ পাওয়ার সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৭.       গার্মেন্টস সহ প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরী ১০,০০০ টাকায় উন্নীত করতে হবে।

৮.      ধর্ষণ, নারী নির্যাতন নগরের রাস্তায় প্রকাশ্যে খুন বা আক্রমনের সময় হাতে-নাতে ধৃতদের মোবাইল কোর্ট কর্তৃক তাৎক্ষনিকভাবে ডিটেনসন দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করতে হবে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জামিন ও বিচার কাজ পরিচালনা করতে হবে।

৯.      নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেকটি পলিটেকনিক/ ইনস্টিটিউটে ড্রাইভিং ডিপার্টমেন্ট খুলতে হবে। প্রাইভেট ড্রাইভিং স্কুল পরিচালনা আয়কর মুক্ত এবং ব্যাংক ঋণের সুবিধা প্রদান করতে হবে।

১০.    প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার শুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্য UGC এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, প্রত্যেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস, ল্যাব, সিলেবাস ও শিক্ষকের মান অনুযায়ী UGC কর্তৃক সেমিস্টার ফিস এর রেঞ্জ নির্ধারণ করে দিতে হবে।

১১.     বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ঝঢ়ড়হংড়ৎ মঁধৎধহঃবব এর ভিত্তিতে শিক্ষা ঋণ চালু করতে হবে।

১২.     চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিনিধিত্বমূলক আলাদা মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১৩.    নকল ওষুধ, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য  মন্ত্রণালয় এর অধীনে “ভেজাল নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর” প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১৪.     প্রতারণামূলক ব্যবসা, মিথ্যা তথ্য ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের জন্য বাণিজ্যিক প্রতারণা দমন কমিশন গঠন করতে হবে।

১৫.    মাদক বিরোধী টেকসই অভিযানের কৌশলপত্র প্রনয়ণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৬.    বিসিএস-সহ সরকারী বেসরকারী সব নিয়োগ পরীক্ষায় উড়ঢ়ব ঞবংঃ চালু করতে হবে।

১৭.     বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রিকরণ এর জন্য প্রত্যেক স্তরে আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বিচারকার্য ত্বরান্বিত করতে হবে।

১৮.    সমস্ত বিমান বন্দরে প্রবাসীদের হয়রানী রোধে  সমস্ত প্রবাসী ডধমব ঊধৎহবৎ দের ১টি ডধমব ঊধৎহবৎ ওউ ঈধৎফ প্রদান করতে হবে, যাতে যে কোন হয়রানীর সময় যোগাযোগের জন্য

১. এয়ারর্পোট ম্যাজিস্ট্রেট ২. প্রবাস কল্যাণ  মন্ত্রণালয়ের সেল ৩. বার এসোসিয়েশনের  সেল দেয়া থাকবে।

১৯.    প্লাম্বার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, মোটর মেকানিক, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম, ফ্যাশন  ডিজাইনিং ইত্যাদির জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিশেষায়িত ডিপার্টমেন্ট অথবা ইন্সটিটিউশন খুলে ৪ বছরের ডিপ্লোমার ব্যবস্থা করতে হবে। এদের বিদেশে যেতে সহযোগিতা করতে হবে ।

২০.     পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নার্স তৈরীর জন্য প্রত্যেক মেডিকেল কলেজে নার্সিং ডিপার্টমেন্ট  অথবা ইনস্টিটিউট খুলতে হবে। এদের বিদেশে যেতে সহযোগিতা করতে হবে।

২১.     বস্তিবাসীর জন্য গণ গৃহায়ন (Low Cost Housing) এর ব্যবস্থা করতে হবে।

২২.     নিম্নবিত্তের জন্য সামাজিক গৃহায়ন বা কমিউনিটি হাউজিং প্রকল্প চালু করতে হবে।

২৩.    চাকরির বয়স ৩৫- এ উন্নীত করতে হবে। শুধুমাত্র বয়সের কারণে যেন তরুণ তরুণী ভালো চাকুরী থেকে বঞ্চিত না হয়।

২৪.     ক্রমান্বয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

২৫.     উৎসব মুখর নির্বাচনের নামে খুন, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ও ঋণ খেলাপীদের মনোনয়ন দিয়ে জন প্রতিনিধি বানানো বন্ধ করতে হবে।

 

অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম

আহবায়ক, জাতীয় জনকল্যাণ ফোরাম

ইমেইল : professorparvez@gmail.com

ফোন : ০১৯৮৬৩৩৩২২২