ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

তথ্য প্রযুক্তির মহাপ্রলয়ে সাংবাদিকতা দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে: সিআরএফ’র আড্ডায় অনমিত্র

নিউজ ডেস্ক,চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ ৫:৪৮ দুপুর

বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দ বাজার এসিসটেন্ট সম্পাদক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায় চট্টগ্রাম রিপোর্টাস ফোরামের সাথে ‘দুই বাংলার সাংবাদিকতা’ শীর্ষক ভিন্নরকম এক আড্ডায় বলেছেন, তথ্য প্রযুক্তির মহাপ্রলয়ে সাংবাদিকতা দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। সেই সাথে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিন্টিং মিডিয়া। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এক শ্রেনীর সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা রয়েছে যা গনমাধ্যমের জন্য শুভ নয়। সাংবাদিকদের বিভক্তির কারনে শাসকদল সব সময় মিডিয়াকে চেপে ধরতে সুযোগ পায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রাম রিপোটার্স ফোরাম আয়োজিত ” দুই বাংলার সাংবাদিকতা ” বিষয়ক আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন।দুই বাংলার সাংবাদিকদের নিয়ে আলাপচারিতা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাজী আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সহ সভাপতি নিরুপদ দাশ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান।

অতিথি বলেন, ভারতের বিশেষ করে কলকতায় সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক দলবাজি নেই। সেখানে গনতন্ত্র এবং বিচার বিভাগ প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পেয়েছে বলেই গনমাধ্যম মত প্রকাশে স্বাধীন। আমাদের আনন্দবাজার পত্রিকার মালিকের একমাত্র ব্যবসা হচ্ছে শুধু মিডিয়া ব্যবসা। সুতরাং উনার সরকার বিরোধী কোন সংবাদ লিখলে কোন অসুবিধে হয়না। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে দেখেছি কোন একটা দল বা গোষ্ঠী মিডিয়ার সাথে জড়িত হয়ে গেছে। তবে উচিত হচ্ছে মিডিয়া সবসময় তার অবস্থানে থাকা।

অনমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, মিডিয়া হাউজগুলোসহ সংশ্লিষ্ট গনমাধ্যম কর্মীদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। পাঠকদের কাছে বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কেননা পাঠকের কাছে যদি মিডিয়া কর্মীদের বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়ে যায় তাহলে গনমাধ্যমে আর কিছু থাকেনা। তাই আমাদের সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এখন প্রিন্ট পত্রিকাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে। কারণ আগামীকালের সংবাদটি আমরা ১৫ মিনিটের মধ্যে টিভি দেখে জানতে পারছি। আরো মজার বিষয় হচ্ছে অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা আরো দ্রুত জানতে পারছি। মোবাইল হ্যান্ডসেটের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আমরা আরো আপডেট হয়ে গেছি। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সাথে সাংবাদিকদের তাল মিলিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন উদ্ভাবন করতে হবে। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজ উপকৃত হয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ওখানে প্রতিটি সংবাদ ৩০০ থেকে ৩৫০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে দেখি প্রতিটি সংবাদ হাজার শব্দেরও বেশি। কম শব্দের মধ্যে মানুষ সংবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তা নাহলে সাধারণ নিউজ থেকে পাঠক দুরে সরে যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, দুই বাংলা নয় সারা পৃথিবীর গনমাধ্যম গুলোর কাছে চ্যালেঞ্জ একই। সংবাদের প্রচার ধরন,পরিবেশন সকল কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল আসাতে পাঠকরা সব ধরনের নিউজ মুহুর্তেই পাচ্ছে। কিছু অনলাইন গনমাধ্যমে ভিত্তিহীন খবর প্রচার এবং অপেশাদারিত্ব বন্ধে নিয়ন্ত্রন রাখার পাশাপাশি একটি নীতিমালা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের অর্থ সম্পাদক আয়ুব আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক লোকমান চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সরওয়ার আমিন বাবু, নির্বাহী সদস্য শামসুল হুদা মিন্টু, আবুল হাসনাত, খোরশেদুল আলম শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, চৌধুরী, এমরান, কাজী এম হাবিব রেজা,প্রমুখ।