ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ , , ৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ দেখল বিশ্ববাসী

আন্তর্জাতিক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০১৮ ৭:৩২ সকাল

শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ দেখল বিশ্ববাসী। শুক্রবার রাতে রক্তিম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট সময় পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করেছেন কোটি কোটি মানুষ।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী থেকে চাঁদকে গাঢ় কমলা বা লাল রঙের দেখায়। চাঁদের এ অবস্থাকেই বলা হয় ‘ব্লাড মুন’। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে একই সরলরেখায় চলে এলে গ্রহণ হয়। এ সময় পৃথিবী যদি চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে থাকে, তখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। একেই বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ। তবে শুক্রবারের চন্দ্রগ্রহণ ছিল শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘ চন্দ্রগ্

আন্তর্জাতিক সময় রাত ৮টা ২১ মিনিটে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা গেছে। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে চন্দ্রগ্রহণ শেষ হয় ৮টা ১৩ মিনিটে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ প্রায় ৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট ধরে স্থায়ী ছিল।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া ভালো থাকায় চাঁদকে পুরোপুরি রক্তিম হয়ে যেতে দেখা গেছে। এ সময় পৃথিবী চাঁদকে গ্রাস করে নিচ্ছিল। এমন অবস্থা ছিল রাত নয়টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের কারণে আগামী দিনগুলোতে মঙ্গলগ্রহ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসবে। আকাশ পরিস্কার থাকলে এটাকে উজ্জ্বল লাল তারকার মতো দেখা যাবে।

সম্প্রতি নাসা জানিয়েছে, জুলাইয়ের ২৭-৩১ তারিখ পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহ সম্পূর্ণ দৃশ্যমান থাকবে। কারণ সূর্যের পুরো আলোই পড়বে মঙ্গলের উপর। আর পৃথিবী থেকে তা পরিষ্কার দেখা যাবে। ৩১ জুলাই মঙ্গল থেকে পৃথিবীর দূরত্ব থাকবে ৩৫.৮ মিলিয়ন মাইল। মঙ্গল এবং সূর্যের অবস্থান মহাকাশে ঠিক বিপরীত স্থানে রয়েছে। তাই ওই সময়টায় সূর্যের পুরো আলো পাবে মঙ্গল গ্রহ। এর আগে ২০০৩ সালে মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসেছিল।

যেহেতু পৃথিবী মঙ্গলের থেকে সূর্যের বেশি কাছে, সেহেতু তার প্রদক্ষিণের সময়টাও বেশি দ্রুত হয়। তাই কখনও দুটি গ্রহই পরস্পরের থেকে অনেক দূরে চলে যায়। আবার কখনও পৃথিবী তার প্রতিবেশী গ্রহের খুব কাছে চলে আসে। ২৭ জুলাই সেরকম অবস্থার মধ্যেই ছিল গ্রহ দুটি।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের কারণেই এমন অভাবনীয় ঘটনা ঘটছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর টিম ও’ব্রিয়েন জানিয়েছেন, সাধারণত চন্দ্রগ্রহণ যতটা সময়ের জন্য দীর্ঘ হয় এটা তার চেয়েও বেশি সময় দীর্ঘ হয়েছে। এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের কারণে শুধুমাত্র মঙ্গলগ্রহই আমাদের নিকটবর্তী থাকবে তা নয় বরং এর কারণে আমাদের প্রতিবেশি গ্রহগুলো বিশেষ করে শুক্র, বৃহস্পতি, শনি এবং মঙ্গল গ্রহের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য চোখে পড়বে।