ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ , , ৬ শাওয়াল ১৪৩৯

নবীনের কণ্ঠে আবৃত্তি

সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭ ২:১৬ দুপুর

abriti pic 04-02-2017

আরিকা মাইশা, কালচারাল করেসপন্ডেন্ট, সিএনএন বাংলাদেশ :: আবৃত্তি মানেই তাল, লয়, সুরের মাধ্যমে শব্দের মালা গাঁথা। সেই সঙ্গে ছন্দ, স্বর ও কবিতার শরীর পৌঁছে দেয়া দর্শকদের মাঝে। স্বরনন্দনের আবৃত্তি শিল্পীরা যেন সেই কাজটি করেছে নিপুণভাবে। ‘নব আনন্দে জাগো’ এই শিরোনামে শিল্পীরা পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুকুমার রায়, জীবনানন্দ দাশ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী, রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শুভ দাশগুপ্ত ও রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতা ছাড়াও সমকালীন কবিদের কবিতা।

সম্প্রতি নগরের ফুলকির একেখান স্মৃতি মিলনায়তনে প্রমিত বাঙলা চর্চা কেন্দ্র স্বরনন্দনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় একক আবৃত্তি আসরের। সংগঠনের নবীন শিল্পীদের অভিষেক ঘটানোর লক্ষে এই আয়োজন। দুই পর্বের আসরে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। সুদীপ্ত বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ফুলকির অধ্যক্ষ শীলা মোমেন, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠু তলাপাত্র।

আসরের প্রথম পর্বে আবৃত্তি করেন স্বরনন্দনের তিন শিক্ষার্থী। শুরুতে হƒদিতা চক্রবর্তী আবৃত্তি করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা ‘শুধু কবিতার জন্য’। এই কবিতা আবৃত্তিটি কবিতাপ্রেমী দর্শকদের প্রাণে দোলা দিয়ে গেল। এরপর হƒদিতা চক্রবর্তী, দীপ্ত চক্রবর্তী ও পূজা বিশ্বাস আবৃত্তি করেন কবিতা ও প্রবন্ধের স্বমনয়ে কোলাজ। তাদের কণ্ঠে কোলাজটি শীতের সন্ধ্যায় বসন্তের আমেজ ছড়িয়ে দেয় মিলনায়তনে। এই আবৃত্তির পর কথামালায় বক্তব্য রাখেন ফুলকির অধ্যক্ষ শীলা মোমেন। কথামালার পর আবার আবৃত্তি। দীপ্ত চক্রবর্তী পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’। এবারে পূজা বিশ্বাস আবৃত্তি করেন রফিক আজাদের ‘ভালবাসার সংজ্ঞা’। এরপর শিল্পীরা কোন কবিতার শব্দে, কোনটির ভাবে কিংবা ছন্দে জোর দিয়ে একে একে আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণের ‘শুধু তোমার জন্য’, রাধারানী দেবীর ‘মনের মতো’, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্ল¬াহর ‘খতিয়ান’ ও ‘কুশল সংবাদ’, নলিনীকান্ত গুপ্তের প্রবন্ধ ‘অশ্লীল ও অসুন্দর’, বিশ্বজিৎ চৌধুরীর ‘দেবী’, সুজন বড়–য়ার ‘মনটা আমার’, লুৎফর রহমান রিটনের ‘বালকের দিনরাত্রি’, ‘এই দেশ আমাদের, আদিবাসী তোর না’, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেখাই হল না’, ওমর কায়সারের ‘দেবীর প্রাথর্না’, সুকুমার রায়ের ‘রাগের ওষুধ’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রথম পূজা’, প্রবালকুমার বসুর ‘অন্ধের ঈশ্বর’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘উত্তরাধিকার’। প্রত্যেক শিল্পীর স্বতন্ত্র উপস্থাপন মুগ্ধতার আবেশ ছড়ায় মিলনায়তন জুড়ে। স্বরনন্দনের আবৃত্তি শিল্পীদের পর আবৃত্তি করতে মঞ্চে আসেন আমন্ত্রিত শিল্পীরা। শুরুতে সেঁজুতি দে আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনদেবতা। এবারে মঞ্জুর মুন্না পরিবেশন করে লতিফুল ইসলামের ‘প্যারিসের চিঠি’। এরপর শিল্পীরা আবৃত্তি করেন কবিতা সিংহের ‘ঈশ্বর কে ইভ’, সলিল চৌধুরীর ‘শৃঙ্খলা-বিশৃঙ্খলা’, জীবনানন্দ দাশের ‘অন্ধকার’, রাশেদ রউফের ‘সারকথা’, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘তিন পাহাড়রে গান’, হোসাইন কবিরের ‘পাপ’, অনিক খানের ‘আবেগ ভয়ংকর’, ব্রত চক্রবর্তীর ‘মিলিদি’, টোকন ঠাকুরের ‘মহাকাব্যের ট্যাজেডি’, শুভ দাশগুপ্তের ‘আমিই সেই মেয়ে’, আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাসের অংশবিশেষ। সব মিলিয়ে আবৃত্তির এই আয়োজন মন ভরিয়েছে দর্শকদের।