ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ ১:৩২ দুপুর

নারায়নগঞ্জ :: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বিসিকের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কারখানা এবং ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন। ওই সময়ে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে থানা পুলিশের ওসিসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক-পুলিশ আহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে ফকির অ্যাপারেল গার্মেন্টসের শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে এ এঘটনা ঘটে।

এতে বিসিকে অবস্থিত প্রায় তিন শতাধীক কারখানায় ছুটি দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ও ৭ থেকে ৮জন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

বিক্ষোভকারীরা বিসিকসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। শিল্প মালিকদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িসহ ১০ থেকে ১২টি যানবাহনও তারা ভাংচুর করে।

সংঘর্ষের ঘটনার কারনে বিসিক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশের নিয়ন্ত্রনে আসে।
এ ঘটনার পর বিসিক শিল্প নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের দাবি, গার্মেন্ট মালিক কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না মেশিন আমদানী করেছে। এসব মেশিন দিয়ে একটি বিভাগে প্রায় ১৫শ শ্রমিক পোষাক তৈরী করে।
মেশিন গুলো অনেক দ্রুত চলে। এতে শ্রমিকরা এক সেকেন্ডের জন্যও অবসরের সময় পায় না। এনিয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে দেনদরবার চলে আসছে। হয়তো মালিক পক্ষ মেশিনগুলো বন্ধ করে দিবে আর নয়তো মজুরি বৃদ্ধি করবে।
কিন্তু মালিক পক্ষ কোন সিদ্ধান্তই মানছে না। উল্টো মালিক পক্ষের লোকজন শ্রমিকদের নির্যাতন করে। এতে শ্রমিকরা গত বুধবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করে।
এরমেধ্যে মালিক ও শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে পুলিশ একাধিকবার বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়।

শ্রমিক ইমন জানান, মালিক আমাদের কোন দাবিই মেনে নিবে না। এজন্য আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে আন্দোলন করেছি। কে বা কারা ভাংচুর চালিয়েছে তা আমাদের জানা নেই।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, শ্রমিকদের সাথে ফকির নিটওয়্যারের মালিক পক্ষের উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা ছিল এই প্রতিষ্ঠানটিতে।
আজ শ্রমিকদের দাবি না মেনে তাদেরকে ছুটি প্রদান করায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্দ হয়ে গার্মেন্টস ভাংচুর করে ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের নিভৃত করার চেষ্টা করে।
এতে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নবী বলেন, আমরা তাদেরকে নিভৃত করার চেষ্টা করলেও তারা আমাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমরা তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেই। ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের সঠিক পরিসংখ্যান পরে জানানো যাবে।

বিকেএমইএ এর সাবেক সহ-সভাপতি ও বিসিক গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত। যারা বিসিক এলাকাতে প্রবেশ করতে পারেনি ওইসব শ্রমিক নেতাদের ইন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর পেছনে ভিন্ন কোনো কারণ থাকতে পারে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শুধু বিসিকের শ্রমিকেরা নয় বরং বাইরের অনেক শ্রমিক নেতারাও ছিলেন এ ভাংচুরে।

এবিষয়ে মালিক পক্ষের বক্তব্য জানতে ফকির অ্যাপারেলসে গিয়ে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।