ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ , , ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

না ফেরার দেশে আলী আকবর রুপু

বিনোদন প্রতিবেদক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ ৮:১৭ সকাল

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আর পেরে উঠলেন না দেশ বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলী আকবর রুপু। আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গীতিকার লিটন অধিকারী রিন্টু।

তিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন আলী আকবর রুপু। তার হার্ট ও কিডনিতেও সমস্যা ছিল। গত শুক্রবার স্ট্রোক হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে আইসিউতে রাখা হয়েছিলো। আজ সকালে আবার স্ট্রোক হয় তার। সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারলো না সে। আমার অতিপ্রিয় বন্ধুটি আজ চিরতরের মতো বিদায় নিয়ে চলে গেল। তার বিদেহি আত্মার জন্য দোয়া চাই সবার কাছে।’

এদিকে আলী আকবর রুপুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতাঙ্গনে। অনেকে ছুটে যাচ্ছেন ইউনাইটেড হাসপাতালে। কেউ কেউ ফেসবুকে রুপুর জন্য জান্নাত কামনায় প্রার্থনা করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী নারগিস আকবর, পুত্র সিডনি ও একমাত্র মেয়ে ফারিয়া নাজসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সংগীতে আলী আকবর রুপুর শুরুটা গিটারিস্ট ও কিবোর্ড বাদক হিসেবে। ১৯৮০ সালে ‘একটি দুর্ঘটনা’ অ্যালবাম দিয়ে অডিও গানে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম অ্যালবামেই তিনি বাজিমাত করেন। গানগুলো বেশ প্রশংসিত হয়।

১৯৮৪ সালে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘রাস্তার ছেলে’ ছবিতে গান করে জনপ্রিয়তা পান এ সুরকার। মাত্র ছয়টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘দুই বেয়াইর কীর্তি’ তার সংগীত পরিচালনায় সর্বশেষ চলচ্চিত্র।

তবে আলী আকবর রুপু দেশের সর্বত্র পরিচিতি পেয়েছিলেন বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র হাত ধরে। প্রায় দুই যুগ ধরে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র অসংখ্য গানের সুর করছেন তিনি। হানিফ সংকেতের মুখে অনুষ্ঠানটির প্রতি পর্বে আলী আকবর রুপুর নাম শোনাটা হয়ে উঠেছিলো নিয়মিত বিষয়।

তার সুর-সংগীতে উল্লেখযোগ্য গানের তালিকায় রয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনের ‘প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি’, এন্ড্রু কিশোরের ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’, মুরাদের ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি’ প্রভৃতি।