ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

নিকলীতে পলিথিনের অবাধ বিক্রি ও ব্যবহার: হুমকিতে ফসলি জমি

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ ৪:২৭ দুপুর

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) থেকে :: কিশোরগেঞ্জের নিকলীতে অবৈধ পলিথিনের ব্যবহার ও বিক্রয়ের ফলে হুমকির মুখে মৎস্য চাষও ফসলি জমি। মাটি, পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এতে খাল-বিল, নদী-নালা থেকে শুরু করে ফসলের মাঠে পর্যন্ত পরিত্যাক্ত পলিথিনের ব্যাপক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বর্জ্যের কারণে নিকলীর জীববৈচিত্র্যসহ পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন।পলিথিনের ব্যবহার রোধে আইন থাকলে ও আইনের প্রয়োগ নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারগুলোতে অবাধে বিক্রয় ও ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন । সবজি বিক্রেতারা সব ধরনের পণ্য পলিথিনে করে ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। আর ক্রেতারাও বিনা দ্বিধায় পলিথিনের ব্যাগে তাদের পণ্য নিচ্ছেন। আবার মাছ, মাংস ও ডিম ব্যবসায়ীরাও তাদের পণ্য পলিথিন ব্যাগে করে ক্রেতাকে দিচ্ছে। অনেক ক্রেতা আবার চেয়ে নিচ্ছেন পলিথিনের ব্যাগ। ইতিপূর্বে নিকলীতে পলিথিনের এমন অবাধ ব্যবহার দেখা যায়নি।

অপরদিকে বাজারের শিশুখাদ্যসহ অধিকাংশ পণ্য পলিথিনে মোড়কজাত করা। অনেক পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের সিলও রয়েছে। দোকানগুলোয় এসব পণ্য দর্শনীয় স্থানে সাজিয়ে রেখে দেদার বিক্রি করা হচ্ছে।

মাছ,শাক-সবজি,চাউল,ডাল,মিষ্টি এমনকি শিশু খাদ্য দুধ,ঔষুধসহ বিভিন্ন তরল খাদ্য পলিথিনে ঝুলিয়ে ক্রেতারা বহন করছে। স্থানীয় দুধ বাজারগুলোতে ক্রেতারা জগ এর পরির্বতে অনায়েশে প্রতিনিয়ত পলিথিন ব্যাগ ব্যাবহার করছে। অনেকেই বাজারে ব্যাগ বা কোন পাত্র আনার প্রয়োজন মনে করে না। এছাড়া ও বিভিন্নি নামি দামি কোম্পানীর উৎপাদিত পণ্য মোটা ও অপচনশীল পলি প্যাকে বাজার জাত করছে।

দোকানিরা বলছেন, এখন আর ক্রেতারা বাজার করতে ব্যাগ নিয়ে আসে না। তাই আমরা পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করি। একসময় অভিযান হতো। তখন ক্রেতারাও চটের বা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসতেন। আমরাও তখন পলিথিন ব্যবহার করতাম না। ক্রেতা ধরে রাখা আর পণ্য বিক্রির স্বার্থে আমরা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করি।

এ কারণে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল । তারা বলেন, যদিও এ অপরাধ বন্ধে সচেতনতারই বেশি দরকার, তবুও আইনের প্রয়োগও বাড়াতে হবে। না হলে এর ব্যবহার বন্ধ হবে না।
৯০-এর দশকে একবার পলিথিন ব্যাগ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। নিয়মিত অভিযানের ফলে এ উদ্যোগ সার্থক হয়েছিলো ।কয়েক বছর যাবত কোন প্রকার অভিযান ও আইনি প্রয়োগ না থাকায় পলিথিনের ব্যাবহার, বিক্রি পরিবহন করা মামুলি ব্যাপার।
২০০২ সালে সংশোধীত পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাতকরন,পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়। আইনে, পলিথিন উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে জেল জরিমানার নির্দেশ থাকলে ও এর বিক্রি ও উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে সাথে ব্যাবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

নিকলীতে অবাধে পলিথিন ব্যাবহারে বিঘ্ন ঘটছে মৎস্য চাষের স্থানীয় পুকুর খাল-বিল,বদ্ধ জলাশয়ে পরিত্যাক্ত পলিথিন পতিত হয়ে মাছ চাষের উৎপাদন খরচ ও মাছের উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে জানায় স্থানীয় মৎস্য চাষীরা । মাছের মাধ্যমে মাইক্রোবিড নামক ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে,বাড়ছে মানব স্বাস্থ্যের ঝুকিঁ।

এ দ্রব্য কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে।ফসলি জমি বা বাড়িতে মাটি খুড়ঁলেই এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। একারণে মাটির উর্বরাশক্তি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। পরিত্যাক্ত পলিথিনের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি ।
তাই পলিথিনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষার জন্য এখনই প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা অতি প্রয়োজন মনে করেন এলাকাবাসী।