ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ , , ১৩ রজব ১৪৪০

পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ নিখোঁজ রিয়াদের লাশ উদ্ধার

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ ১১:৫১ সকাল

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর রিয়াদের (২৫) লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করল পুলিশ।

২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুলগাঁও এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে রিয়াদের লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

নিহত রিয়াদ সিকদার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মুলগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত শাহজাহান সিকদারের ছেলে।

রিয়াদ এবং তার তিন স্বজন দুলাল, রূপম ও আইয়ুব মুলগাঁও গ্রামের প্রাণ-আরএফএল কোম্পানীর পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছে- এমন খবর পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার ভোরে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে মুলগাঁও এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাটি বিক্রির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো- পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর এলাকার নূর নবী, আকাশ, সৈয়দ আহমদ, ইমরান হোসেন ও মোঃ রনি।

ওই সময় পুলিশের ভয়ে রিয়াদসহ চারজন শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দেয়। তিনজন সাঁতরে নদীর ওপার পৌঁছালেও রিয়াদ নদীতে তলিয়ে যায় বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর রবিবার নিহতের ভাই রিফাত সিকদার জানান, মূলগাঁও গ্রামে তাদের জমির পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে তার ভাই সপ্তাহ খানেক আগে থেকে মাটি বিক্রি করছিল। ক্রেতারা নৌকাযোগে মাটি নিয়ে যেতেন। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার ভাই রিয়াদ এবং তাদের তিন স্বজন দুলাল, রূপম ও আইয়ুব নদীর নৌকায় মাটি উঠানো এবং মাটি কাটা দেখতে যান। এ সময় কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ফোর্স নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় সবাই পালিয়ে যায়। তবে তার ভাই রিয়াদ সিকদার ওই মুহূর্তে পালাতে পারেননি। সে পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে বলে স্থানীয়রা তাদের জানিয়েছে। নিহত রিয়াদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু বকর মিয়া বলেন, রিয়াদসহ কয়েকজন মিলে চুরি করে মাটি বিক্রি করত। সে মাটি কাটার ঘটনাস্থলে ছিল। রিয়াদ পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে ডুবে নিহতের খবর আমাদের জানা নেই। তবে তার লোকজন বলছে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে এসে রবিবার ও সোমবার কাজ করিয়েছি। কিন্তু তার লাশ পাইনি। পুলিশ কাউকে ধাওয়া করেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ট্রলার ও মাটি কাটার সরঞ্জামাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। যারা পালিয়ে গেছে, তাদের নামেও মামলা হয়েছে।