ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ১ রবিউস সানি ১৪৪০

প্রণব মূখার্জির আগমনকে ঘিরে বদলে গেছে সূর্যসেন পল্লী

রাউজান প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ ৮:৪৯ সকাল

চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়ক চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের নোয়াপাড়া পথেরহাট থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের পথের দুরত্ব সূর্যসেন পল্লীর। দেশের আর দশটি গ্রামীণ জনপদ থেকে এই গ্রামের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ইতিহাসের একজন বীর পুরুষ।

হালকা পাতলা গড়নের এই গ্রামেরই সন্তান মাষ্টারদা সূর্যসেনই যে বুক চিতিয়ে লড়ে ব্রিটিশ সামাজ্যে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছেন। সূর্যসেন নামটিই যেন একটি ইতিহাস হয়ে আছে। গ্রামের যেই ছেলেটি সারা ভারত উপমহাদেশে নিজের তেজোদীপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামের পরিচিতিটাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন তার সেই অবদানকে ধরে রাখতে এলাকার মানুষ এই গ্রামের নামকরণ করেছে ‘সূর্যসেন পল্লী’ নামে।

সূর্যসেন পল্লীর মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটায় গড়ে উঠেছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। চারপাশের সীমানা প্রাচীরের ভেতর রয়েছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োজিত স্বাস্থ্যসহকারী ও কর্মচারীদের আবাসনের জন্য নির্মিত দুটি ভবন। মাঝখানেই মাষ্টারদা’র স্মৃতি সমাধি। জন্ম কিং বা ফাঁসি দিবস ছাড়া সূর্যসেনকে স্মরণ করতে তেমন কাউকে ছুটে আসতে দেখা যায়না এই পল্লীতে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্বের কারণে আশপাশের কয়েকটি সমাজ ছাড়া পাশের গ্রাম থেকে রোগীদের আনাগোনাও চোখে পড়েনা তেমন একটা। ছায়া ঘেরা, পাখি ডাকা সূর্যসেন পল্লীতে ২০০৩ সালে নির্মিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কিছুদিন আগেও গেলে চোখে পড়ত স্যাঁতস্যাতে পরিবেশ। সেমিনার কক্ষ ,উপর তলায় আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ, ডেলিভারী কক্ষ, হাসপাতালে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ২টি আবাসিক ভবন,এ্যাম্বুল্যান্স ও ড্রাইভার থাকার ভবনগুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সীমানা প্রাচীরের উপর শ্যাওলার স্তুপ জমে থাকা, ভবনের বিবর্ণ চিত্র, ময়লা পরিবেশ এ যেন নিয়মিত চিএই ছিল এই পল্লীর। কদাচিৎ বিভিন্ন কাজে যারা এই পল্লীতে গিয়ে একবার ঢুঁ মেরেছেন সূর্যসেনের বাস্তুভিটায় গড়ে উঠা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ভেতরের পরিবেশটাই দেখে অস্বস্থি ভর করতো তাদের মাঝে। কিন্তু একটি সংবাদেই যেন আলাদীনের চেরাগের মতো বদলে যেতে শুরু করলো এই গ্রামের চিত্র।

আগামী ১৬ জানুয়ারী ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জি মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটা পরিদর্শনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এই সংবাদে রাতারাতিই যেন পরিবর্তনের হিড়িক লেগেছে সূর্যসেন পল্লীতে। গ্রামের সড়কের খানাখন্দ, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জীর্ণশীর্ণ ভবণসহ পুরো এলাকায় দেখা যাচ্ছে সংস্কারের দৃশ্য। মোট কথা প্রণব মূখার্জীর আগমনকে ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।

সরেজমিনে সূর্যসেন পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বিবর্ণ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রংয়ের প্রলেপে নতুনত্ব ফিরে এসেছে, মূল সড়ক হতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সংযোগ সড়কটির খানাখন্দ ভরাট করা হচ্ছে, নামফলকে ফিরে এসেছে উজ্জ্বল্য। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির আগমণ অবশ্যই এই এলাকার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। কিন্তু মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটায় গড়ে উঠা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি পুরোদমে চালু করা গেলেই এলাকার অসহায় মানুষ অন্তত চিকিৎসা সেবাটুকু গ্রহণ করতে পারতো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , হাসপাতালের অভ্যন্তরে ‘জরুরী সেবার জন্য ২৪ ঘন্টা খোলা’ লেখা সম্বলিত একটি লেখা দেওয়ালে শোভা পেলেও প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে শুধুমাত্র বহিঃবিভাগে চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে। বর্তমানে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসা সহকারী ২ জন,পরিবার পরিদর্শিকা ২ জন,মিড ওয়াইফ ১ জন, গার্ড ২ জন, আয়া ১ জন।

এলাকার বাসিন্দা মাষ্টার হুমায়ুন তালুকদার বলেন, মাষ্টারদা সূর্য সেন শুধু আমাদের রাউজানের নয় সারা দেশের গৌরব। উনার মতো একজন বিপ্লবীর বাস্তুভিটা পরিদর্শন করতে আসছেন প্রণব মুখার্জির মতো একজন বড়মাপের মানুষ। এতে এলাকাবাসীরা খুবই উৎফুল্ল। কিন্তু মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালুর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এটি পুরোপুরি চালু না হওয়ায় আমরা খুবই হতাশ। তবে এবার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমনকে ঘিরে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে।

বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পান্না রাণী পাল জানান, সূর্যসেনের বাস্তুভিটা দেখার জন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির আগমণ উপলক্ষে মা ও শিশু হাসপাতালের সৌন্ধর্য্যবর্ধনের কাজ চলছে। আর এসব সংস্কার কাজ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুশীল দাশ জানান, সূর্যসেন পল্লীতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমণ উপলক্ষে আমরা নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে এলাকার সড়ক, সূর্যসেন পল্লীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সংস্কার কাজ করছি।