ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ , , ৫ সফর ১৪৪০

প্রত্যেকটি কাজ শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলার উপকারিতা

নিউজরুম ডেস্ক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: মে ১৭, ২০১৮ ১:৫২ দুপুর

লেখকঃ ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
উত্তরঃ পবিত্র আল-কুরআনের ১১৪ টি সূরা আছে, এর মধ্যে একটি সূরা তওবা ব্যতিত বাকি ১১৩টি সূরা শুরু হয়েছে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” দিয়ে।যার অর্থ “পরম করুনাময় মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি “। শুধু তাই নয় প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও ”বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” বলে প্রত্যেকটা কাজ শুরু করতেন। এর থেকে প্রমান হয় কোন কাজ শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করতে হয়। আল্লাহকে কি নামে ডাকতে হবে এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَٰنَ ۖ أَيًّا مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ
অর্থঃ হে নবী ! এদেরকে বলে দাও, আল্লাহ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য সবই ভালো নাম।(বনি ইসরাইল-১১০)
এছাড়াও হাদীস থেকে জানা যায়, যে কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুররু করা হয় না সে কাজে আল্লাহর কোন বরকত থাকে না। যেমন একটি হাসীদে নবী করিম (সঃ) বলেন- যে কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা হয় না সে কাজ কল্যাণহীন ও বারাকাতশূণ্য থাকে। মুসনাদে আহমাদ, অতএব মুমিনের উচিৎ প্রত্যেকটা কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা।
প্রত্যেক কাজে বিসমিল্লাহ বলার উপকারিতা
১. বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায় এবং কাজে ধৈর্য বেড়ে যায় ও সফলতা আসে।
২. প্রত্যেকটি কাজ যদি আল্লাহর নাম নিয়ে শুর করা হয় তাহলে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা সহজ হয়। কারণ আল্লাহর নাম নিয়ে খারাপ কাজ করতে গেলে আমাদের বিবেক বাঁধা দিবে যে আল্লাহর নাম নিয়ে এ কাজ করা ঠিক হবে না।
৩. আল্লাহর নামে কোন ভালো কাজ শুরু করলে এ নামের বরকতে কাজটা আরও সুন্দর ও ভাল হয়। কারণ বান্দা যখন তার প্রভূর বরকতপূর্ণ নাম নিয়ে কোন ভালো কাজ শুরু করে তখন আল্লাহ তার বান্দার কাজে আরও বরকত ঢেলে দেন।
৪. আর মুমিনদের কাম্য তো সর্বদা আল্লাহকে খুশি করা। তাই এই ছোট্ট একটি কাজের মাধ্যমে যদি মহান প্রভূকে খুশি করা যায় তবে এর থেকে মুমিনদের বড় পাওয়া আর কি হতে পারে।
বিসমিল্লাহ বলে কেন কাজ শুরু করবো?
১. বিসমিল্লাহ বলে কোন কাজ শুরু করার অর্থ এই কথা মেনে নেয়া যে আল্লাহ ক্ষমতা না দিলে আমি কাজটি করতে পারতাম না। অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহ যে অসীম ক্ষমতাবান তা স্বীকার করে নেওয়া।
২. মহান রাব্বুল আলামিনকে খুশি করার জন্য আমরা বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করব।
৩. বিসমিল্লাহ শব্দের মধ্যে আল্লাহর নাম আছে, সুতরাং বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করলে আল্লাহর নাম স্বরণ করা হয়।
৪. আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যেকোনো কাজ শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতেন তাই আমরাও করবো।
বিসমিল্লাহর উপকারীতা সম্পর্কে রাসূল (সঃ) বলেন- তোমরা শয়তানকে শয়তান বল না কারণ এতে সে গর্বে বড় হয়ে যায়, এমনকি সে বড় হতে হতে একটি ঘরের মত হয়ে যায় বরং তোমরা বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করো কারণ এতে শায়তান ছোট হতে হতে মাছির মত হয়ে যায়। আহমাদ ৫/৫৯
অন্য একটি হাদীসে তিনি বলেন, যে কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা হয় সে কাজে আল্লাহ কল্যানে পরিপূর্ণ করে দেন।
লেখকঃ
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান
সোস্যাল মিডিয়া দাওয়াতুল কুরআন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ
মোবাইল নাং-০১৯১৩৩-৩৩২৩১