ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ , , ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

ফুলগাজীতে টানা বর্ষণে ২৫ গ্রাম প্লাবত

ফুলগাজী প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮ ৮:০৭ সকাল

মঙ্গলবার (১২ জুন) থেকে বুধবারের বর্ষণে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর, চিথলিয়া ও পৌর এলাকার ১৬টি গ্রাম প্লাবনের ঘটনা ঘটে।

এরফলে কৃষকের ফসলের ক্ষেত, পুকুরের মাছসহ রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান উদ্দিন ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। একইদিন বিকেলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, মুহুরী নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকালে ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল বারী মনছুর জানান, ইউপির দক্ষিণ কাউতলী গ্রামে বুধবার সকালে আলি আশ্রাফ মজুমদারের বাড়ির পাশে নতুন বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়।এতে দক্ষিণ কাউতলী, কাশিনগর, চম্বকনগর, উত্তর কাউতলী গ্রাম প্লাবিত হয়।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আবদুর রহমানের বাড়ির পাশের মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই ইউনিয়নের উত্তর শালধর গ্রামের মহসিন মেম্বরের বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েকদিনের বর্ষণে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে ওই স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সে ভাঙন আরো বড় হতে থাকে।

পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল  জানান, পৌর এলাকার শাহপাড়া গ্রামে জামাল মিয়ার বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা ইউএনও মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ জানান, উপজেলায় আটটি এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষকের ফসলি জমি, পুকুরের মাছসহ রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে ভারী বর্ষণে ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর ছয়টি বাঁধ ভেঙে অন্তত নয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঘনিয়া মোড়া, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, উত্তর বরইয়া ও দক্ষিণ বরইয়া।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর ইউপি সদস্য মো. তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে সদর ইউনিয়নের মুহুরী নদীর ফুলগাজী অংশে দু’টি স্থানে ভাঙন হয়, এরপর বুধবার দিন ও রাতে আরও চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে তিনি সেসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন ও ত্রাণের ব্যবস্থাও করেছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন তারা ত্রাণ নয় স্থায়ী বাঁধ চান।

ভারী বর্ষণে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার মৌটুবী ইউনিয়নেও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।