ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , , ৮ মুহররম ১৪৪০

প্রাথমিক শিক্ষার প্রর্বতন বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী উদ্যােগ

ইসমাত ফারজানা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ ৯:২৩ সকাল

মালা গো মালা,এসো করি খেলা একটি মেয়ে বসে আছে তার কোন বন্ধু নাই…….
বারান্দা দিয়ে যাবার সময় গানের সুরে ভসেে আসছিলো কথাগুলো। অনেকগুলো কচি কণ্ঠের সুমধুর সুরে ভেসে আসা এই কথা গুলো আমাকে যেন দূর থকে ডেকে নিয়ে গেল, মৃদু পায়ে দরজায় গিয়ে দাড়ালাম। এই সুমধুর সুরে গাওয়া কণ্ঠগুলো আমার বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। শিক্ষকের নির্দেশনায় ওরা খুবই আনন্দের সাথে গাইতে গাইতে খেলছিল। ওদের দেখে এত ভাল লাগে! প্রতিদিনই কাজের ফাঁকে কিছুটা সময় আমি আমার প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে কাটাই।ওদের পড়া, খেলা, ব্যায়াম কিংবা গানের অংশে সঙ্গী হই। ওদের দেখতে দেখতে মাঝে মাঝে ফিরে যাই অনেক বছর আগে পিছনে ফেলে আসা আমার ছেলেবেলায়। বই-খাতা, স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রথম স্কুলে যাওয়া। শিক্ষকদের সাথে সাথে গলা মিলিয়ে অ-আ শেখা, নীরস ক্লাস শেষে হেলতে দুলতে বাড়ি ফেরা(আমার হাতে খড়ির সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সবিনয় শ্রদ্ধা জানাই,যাদের কারণে আজ আমার এতদূর আসা)। খুব আফসোস হয়,ভািব,কেন আমার সময় স্কুলটা এমন আনন্দের ছিল না। সেই সাথে গর্বিত হই আমার সন্তানদের নিয়ে যাদের শুরুটা আমাদের মত এমন নীরস, নিরেট, আনন্দহীন পড়া-লেখা দিয়ে হয়না। তারা পড়ে, শেখখে সুসজ্জিত রঙ্গীন শিশু বান্ধব, আনন্দমুখর পরিবেশে। আর এই সুযোগ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী একটি পদক্ষেপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫+ বয়সী শিশুদের জন্য প্রথম শ্রেণির পূর্ববর্তী প্রবেশক হিসেবে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির প্রর্বতন। বর্তমানে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যা সজ্জতি থাকে দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্র, ছবি কার্টুন, প্রচুর খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি শিশুদের উপযোগী সামগ্রী দিয়ে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। এতে রয়েছে প্রাকৃিতক পরিবেশ, পশুপাখির ছবি ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে শিশুদের পরিচিতি সর্ম্পকিত, নিরাপদে সড়ক পারাপারের প্রয়োজনীয় কতিপয় চিহ্নের সাথে পরিচিতি সম্পর্কিত ছবি সহ এমন আরো অনেক ছবি বা দেয়ালচিত্রের নির্দেশনা। এসব ছবি বা দেয়ালচিত্রগুলো শিশুদের আনন্দদানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও সচেতনন নাগরিক হয়ে বেড়ে উঠতে সহায়তা করবে। প্রতিবছর শুধুমাত্র প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণে থাকে সুনির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ। সৃজন করা হয়েছে প্রাক-প্রাথমকি শিক্ষক নামে স্বতন্ত্র পদ এবং চাহিদা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়োগ সম্পন্ন হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা র্কাযক্রম এমনভাবে প্রণীত যেখানে শিশুদের উপর পড়া-লেখার ভারী বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নাই। প্রচুর খেলাধর্মী কাজের মধ্যদিয়ে শিশুরা বাংলা ও গণিতের হাতে খড়ি অর্জন করবে। শিশুদের শোনা ও বলার দক্ষতার পাশাপাশি পঠন এবং সঠিক নিয়মে লিখন দক্ষতারও বিকাশ ঘটবে বলে আশা করা যায়। প্রতিদিনের প্রাক-প্রাথমকি শ্রেণি র্কাযক্রম শুরু হয় সমাবেশে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন আর ব্যায়াম এর মাধ্যমে যা শিশুকে দিনের শুভ সূচনায় দেশাত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে ও দেহ, মনে সুস্থতা আনয়নে সহায়তা করে। গুণীজনের কাছে শোনা বাণী,আনন্দের মাঝে শিখন ই স্থায়ী শিখন। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আর আমাদের সুযোগ্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি শতভাগ শিশুবান্ধব সরকার। সুস্থ, সুন্দর, সংস্কৃতমিনা, উদার মানসকিতা সম্পন্ন দেশ প্রেমিক ভবষ্যিৎ নাগরিক তৈরির সুতিকাগার হবে পড়ালখোর প্রাতিষ্ঠানিক হাতে খড়ি বিদ্যালয়ের প্রাথমিক পর্যায় থেকে। হয়ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সুদুরপ্রসারী দর্শনের অন্যতম পদক্ষেপ প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। একজন সচতেন মা হিসেবে, একজন শিক্ষক হিসেবে সাধুবাদ জানাই এই কার্যক্রমকে।