ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

বাজার মাতাচ্ছে বোয়ালখালীর লেবু

মোংফারুকুল ইসলাম বোয়ালখালী । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৮ ৫:৩৪ সকাল

 

চলতি বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় বোয়ালখালীতে লেবুর ফলন অন্যবারের তুলনায় এবার অনেক ভাল হয়েছে। এতে ঘুরে যাচ্ছে এখানকার অনেকের ভাগ্যের চাকা। জানা যায়, উপজেলার আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গার বিশাল পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকশত লেবু বাগান। চাষটি লাভজনক হওয়ায় এর দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে অনেকেই। এতে পিছিয়ে থাকা এলাকাবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসতে শুরু করেছে এখানকার ঘরে ঘরে। তবে এখানকার চাষিদের অভিযোগ, তাদের এ কাজে সরকারি সহায়তা কিংবা কৃষি বিভাগের পরামর্শ তারা পান না। ব্যক্তিগত কিংবা বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ধার-কর্জ নিয়েই এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা চাষাবাদ করে থাকেন। বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গা থেকে প্রতিদিন শত শত বস্তা লেবু ট্রাক-পিকআপ ও বিভিন্ন বাহনযোগে চট্টগ্রাম হয়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় বাজার, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, সীতাকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা আড়তদার ও কৃষকেরা। উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অনেক বেকার যুবক এখন লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের অভিযোগ এখানে যে পরিমাণ লেবু উৎপাদন হয় হিমাগার বা উপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পচন ধরে লেবু নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে কম দামে এসব লেবু বিক্রি করে দিতে হয় তাদের। এতে অনেক সময় চাষিদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এখানকার চাষিরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা উৎপাদিত লেবু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারলে তা বিদেশেও রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেত বলে ধারণা অনেকের। জানা যায়, গত বছর বোয়ালখালী উপজেলায় পাহাড়ি ও বনভূমি এলাকাজুড়ে শত শত হেক্টর লেবু চাষ হয়েছিল। চলতি বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিরা জানিয়েছেন, ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে লেবুর ফুল আসতে শুরু করে আর ফলন দেয় জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ-­ভাদ্র মাসজুড়ে। এছাড়াও বোয়ালখালীর আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে বছরের প্রায় ১২ মাসই বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ হয়ে থাকে। তবে জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র এ ৪ মাসে লেবু ফলন বেশি হয়ে থাকে। দেশে বিভিন্ন জাতের লেবু থাকলেও বোয়ালখালীতে সাধারণত কাগজী, বাতাবি, পাতি ও এলাচি লেবুর আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে কাগজী ও বাতাবি লেবুর চাষই হয় বেশি। এ চাষ লাভজনক হওয়াতে দিন দিন বাড়ছে উপজেলায় লেবু চাষির সংখ্যা। চাষিরা বলেন- বোয়ালখালীর এসব পাহাড়ি ভূমি লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার চাষিদের সরকার তথা কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণসহ লেবু চাষে নিয়মিত সহযোগিতা করলে এ চাষে বিপ্লব ঘটানো যেত বলে অনেকের ধারণা। এতে যেমন তৈরি হতো অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান তেমনি এখানাকার ঘরে ঘরে ফিরে আসতো আরো বেশি আর্থিক সচ্ছলতা। এর মধ্য দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় হতো প্রচুর। তারা আরো বলেন, এখানে বন বিভাগের হাজার হাজার হেক্টর ভূমি পরিত্যক্ত ও অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। এসব ভূমি উদ্ধার করে সরকারিভাবে পরিত্যক্ত অবৈধ দখলীয় বনভূমি যদি লেবু চাষের আওতায় আনা যায়। তাহলে এসব ভূমিতে লেবু চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ লেবু বিদেশেও রপ্তানি করা যেত বলে জানান স্থানীয়রা। পূর্ব আমুচিয়ার লেবু চাষি মো. আবু জাফর বলেন, তিনি নিজেও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি লেবু চাষের মাধ্যমে আজ অনেক স্বাবলম্বী। একজনের দেখা-দেখিতে এখানকার অনেকেই এখন লেবু চাষে আগ্রহী। এ কাজে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে একদিকে যেমন বেড়ে যাবে বেকারদের কর্মসংস্থান, অন্যদিকে এখানকার ঘরে ঘরে ফিরে আসবে আর্থিক সচ্ছলতা। তিনি বলেন, এখানকার লেবু চাষিদের মধ্যে প্রায়ই যুবক শ্রেণী। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখানকার এসব যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদী তিনি। কড়লডেঙ্গা নতুন বাজারের পাইকারি লেবু ব্যবসায়ী ও আড়তদার মোঃ সোহেল জানান, তার মত উপজেলায় আরও অনেক আড়ত রয়েছে। এসব আরত থেকে প্রতিদিন ৫-১০ গাড়ি করে লেবু সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি বাজারগুলোতে বাজারজাত করা হচ্ছে।