ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , , ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বাড়ছে না গ্যাসের দাম

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৮ ১:২৫ দুপুর

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গ্যাসের উৎপাদন, এলএনজি আমদানি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে দাঁড়ালো সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে বিইআরসি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ সময় বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য আব্দুল আজিজ খান বক্তব্য রাখেন। কমিশনের সদস্য রহমান মুরশেদ, মিজানুর রহমান ও মাহমুদ উল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কমিশন ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যমান মূল্যহার পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশন নিরাপত্তা জামানত, বিল পরিশোধ, বিল পৌঁছানোর বিষয়ে আগের নিয়মের পরিবর্তন করেছে। বিতরণ সিসটেম লস নিরূপণের প্রচলতি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাস সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থায় আরও কিছু সংস্কার বাস্তবায়নের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ আদেশ ১৮ সেপ্টম্বর থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআরসি সদস্য আব্দুল আজিজ খান বলেন, ‘এলএনজি আমদানিতে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন। যা সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। এ পরিমাণ ভর্তুকি দিলে এলএনজি আমাদনিতে আর কোনো সমস্যা হবে না।’

বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘১৭ মার্চ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) কমিশনে সঞ্চালন ট্যারিফ বাড়ানোর আবেদন করে। এরপর ২০ মার্চ তিতাস, বাখরাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও কর্ণফুলী এবং ২১ মার্চ জালালাবাদ ও সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি পৃথকভাবে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর আবেদন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবেদনগুলো বিবেচনা করে কমিশন জুনে শুনানি করে। গ্যাসের উৎপাদন, এলএনজি আমদানি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিইআরসি রেগুলেটরি আইন ২০০৩ এর ধারা ২২ (খ) এবং ৩৪-এর ক্ষমতা বলে কমিশন ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যমান মূল্যহার পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জারি করা ২৬ সেপ্টেম্বরের এসআরও-এর মাধ্যমে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এলএনজি আমাদনির শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই বিভাগের জারি করা ৩ অক্টোবরের আলাদা দুটি এসআরও-এর মধ্যেমে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক এবং আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর ও মূসক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান গ্যাসের মূল্যহার বণ্টন, বিবরণী সংশোধন করে কমিশন আদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে গত সপ্তাহে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চায় বিইআরসি। গত ৭ অক্টোবর বিইআরসি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা চায়। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়েও যান তিনি। সিদ্ধান্ত ছিল বিকেলে ফিরে এসে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। ফলে ওই দিনের সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে বিইআরসি।

নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় সরকার বিইআরসিকে দাম বৃদ্ধির বদলে কত টাকা ভর্তুকি দিলে এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক থাকবে তা বের করার নির্দেশ দেয়। কমিশন গত সপ্তাহজুড়ে ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণ করে।

কমিশন এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, নিরাপত্তা জামানত হিসেবে তিন মাসের পরিবর্তে দুই মাসের, ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাসের বিলের সবপরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রিপেইড মিটার গ্রাহককে আর নিরাপত্তা জামানত দিতে হবে না। গ্যাসের বিলের কাগজে মূল্যহার ঘনমিটারে ঘণ্টা প্রতি ও মাসিক অনুমোদিত লোড, চালনা পদ্ধতি, (দৈনিক কর্মঘণ্টা ও মাসিক কার্য দিবস), ডায়ভারসিটি ফ্যাক্টর ও সরবরাহ চাপ উল্লেখ করতে হবে। সব ধরনের গ্যাস ব্যবহারকারী সরবরাহ মাসের পরবর্তী মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত বিলম্ব মাশুল ছাড়া বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এ সময়সীমার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে গ্রাহকের কাছে বিতরণকারী কোম্পানিকে বিল পৌঁছাতে হবে। ক্যাপ্টিভ পাওয়ার ও শিল্প গ্রাহকের কো-জেনারেশন স্কিম অব্যাহতভাবে তিন মাস চালু থাকলে পরের তিন মাসের মধ্যে ওই গ্রাহকের তিন মাসের মোট বিলের (সারচার্জ বা বিলম্ব মাশুল ছাড়া) ওপর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) দেয়া হবে।