ঢাকা, রোববার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯ , , ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

বিমানবন্দরে আনসার প্লাটুন কমান্ডার শফিকের রাম রাজত্ব

রাজীব চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ১:২৫ দুপুর

               


চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিময়ের অভিযোগ উঠেছে। মোটা দাগের টাকার বিনিময়ে আনসার সদস্যদের ইচ্ছেমত ছুটি প্রদান, বিমানবন্দরে পছন্দমত স্থানে আনসার সদস্যদের নিয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে শফিক তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সূত্র জানায়, শফিকের অধীনে ২০০ জন আনসার সদস্য শাহ আমানত বিমানবন্দরে কাজ করে। কোন সদস্য বিমানবন্দরের কোন স্থানে কাজ করবে সেটা নির্ধারণ করেন শফিক। এছাড়া আনসার সদস্যদের ছুটির বিষয়টিও তার হাতে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একজন আনসার সদস্য তিনমাসে দশদিন ছুটি কাটাতে পারেন।কিন্তু শফিক টাকার বিনিময়ে আনসার সদস্যদের ইচ্ছেমত ছুটি প্রদান করে।ফলে সেই আনসার সদস্য কাগজে কলমে উপস্থিত থাকলেও মুলত সে তখন ছুটি কাটাচ্ছে। আর কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার সুবাদে বেতন-ভাতাও চলে আসছে নিয়মিত। অনুসন্ধানে জানা যায়, শফিকের অধীনে আনসার সদস্য মো. ফরিদ আলী ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি কাটিয়েছেন। মো. আল আমিন হোসেন ৩ অক্টোবর থেকে ১৮ ডিসেম্বর ছুটি কাটিয়েছেন।আনসার সদস্য ফারুকুল ইসলাম ১৮নভেম্বর থেকে ৩১ডিসেম্বর,সজিব হোসেন ৩০সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটি কাটিয়েছেন।এছাড়া মো. আহাদুল মোল্লা একটানা ৪৫ দিন ছুটি কাটিয়েছেন তবে ছুটিতে থাকলেও তাদের বেতন-ভাতা ঠিকই পেয়েছেন।কারণ শফিকুল ইসলাম তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত দেখিয়েছেন।এর জন্য প্রতিমাস বাবদ একেকজন আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা করে নিয়েছেন শফিক।এদিকে বিমানবন্দরের কোন পয়েন্টে কোন সদস্য কাজ করবে সেটাও ঠিক করে দেন শফিক।যে সব পয়েন্টে টাকা কামানোর সুযোগ বেশী সে সব পয়েন্টে টাকার বিনিময়ে সদস্যদের নিয়োগ দেন তিনি।যেমন কাস্টমস গেটে প্রতি শিফটে ১৫০ টাকা করে দুই শিফট, ড্রাইভওয়ে (১,২) প্রতি শিফটে ২০০টাকা করে দুই শিফট,পার্কিংয়ে একজন ১০০টাকা করে তিন শিফট,মেইন গেইটে প্রতি শিফট ২০০টাকা করে চার শিফট,শহীদ মিনার এলাকা থেকে ১০০ টাকা করে দুই জন। ভিআইপি ৬নং গেটে মাসিক ৫ হাজার টাকা। ১০নং গেটে মাসিক ৪ হাজার এবং ৭ নং গেটে মাসিক ৩হাজার টাকা।কার্গো শাখায় মাসিক ১০হাজার টাকা।এসব পয়েন্টে যেসব সদস্যরা নিয়োগ পান,এ পরিমাণ অর্থ দিয়েই তাদের কাজ করতে হয়।নচেৎ তাদের সেখানে নিয়োগ দেয়া হয় না।এসব অভিযোগের ব্যাপারে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন,আপনি এসে এখানে দেখে যান,একটা স্বার্থান্বেষী মহল এগুলো রটাচ্ছে। আমি চট্টগ্রামে নতুন,মাত্র ৮মাস হয়েছে আমি আসছি,আমি অসুস্থ,আমি চট্টগ্রামে থাকতে চাই না।কেন থাকতে চান না এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে প্রচুর খাটনি ,কাজের চাপ অত্যন্ত বেশী। আর আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছি আমাকে অন্য জায়গায় বদলি করে দিতে।আমি বিমানবন্দরে কাজ করতে চাই না।অন্য জায়গায় আমাকে স্থানান্তর করা হোক আমার আপত্তি নেই।এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে আনসার চট্টগ্রাম রেঞ্জের কমান্ড্যান্ট মোঃ সামশুল আলম বলেন,যেহেতু এই নিয়োগগুলো জেলা দপ্তর থেকে হয়, আপনি জেলা দপ্তর থেকে বক্তব্য নেন,আপনি একজন কমানন্ড্যান্ট হিসেবে বিষয়টা কিভাবে দেখছেন এর উত্তরে তিনি বলেন,এখনো আমার কাছে লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি,তাই এ ব্যাপারে আমি কোন পদক্ষেপ নিতে পারবো না।বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন,সেখানে এত বিশাল একটা দূর্নীতি,দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রাণের চাওয়া দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।