ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ , , ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

বিষ ও ভেজালমুক্ত মৌসুমী ফল নিশ্চিত করার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৮ ২:৩২ দুপুর

অসাধু ব্যবসায়ীগন অধিক মুনাফা লাভের আশায় মৌসুমী ফলের উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণে বিষ ও ভেজালের মিশ্রণ করে। জনগণ বাধ্য হয়ে এসব বিষাক্ত ফল-মূল গ্রহণ করে নিরাপদ এবং পুষ্টি সম্পন্ন খাদ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় বিষ ও ভেজালমুক্ত মৌসুমী ফল নিশ্চিত করা জরুরী।

এমতাবস্থায় পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ সহ মোট ৬ টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আজ ২০ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার, সকাল ১০:৩০ টায়, রাজধানীর নবাবগঞ্জ সেকশন বেড়ীঁবাধ সংলগ্ন ফলের আড়ৎ এর সামনে মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ এর সভাপতি আমির হাসান মাসুদ এর সভাপতিত্বে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সচেতন নগরবাসী সংগঠন এর সভাপতি জি.এম রোস্তম খান, নাগরিক অধিকার সংরক্ষন ফোরাম (নাসফ) এর সহ-সম্পাদক মোঃ সেলিম, সোস্যাল লিংক ফর হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক কে.এ মজনু, স্বচ্ছ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুমন শেখ, খলিল সরদার কৃষি মার্কেটের সভাপতি, হাজী নুর হোসন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কামরাঙ্গীরচর থানার সাধারন সম্পাদক, তৌহিদুল ইসলাম মাতিন, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, এ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান, মানবাধিকার কর্মী উজ্জল প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, মৌসুমী ফলের কুড়িঁ থেকে শুরু করে পাকা এবং বাজারজাত করন পর্যন্ত অত্যাধিক ও নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জনগণ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার উচ্চ ঝুকিতে রয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খাদ্যের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক পদাথর্ গ্রহণের পর তা নিঃশেষ না হয়ে দেহের ভিতর দীর্ঘদিন জমা থাকে। ফলে এ বিষক্রিয়া বংশ থেকে বংশে স্থানান্তর হয়। মৌসুমী ফলে রাসায়নিক বিষ মেশানো র কারনে ক্যান্সার, প্যারালাইসিস, কিডনির রোগ, লিভার সিরোসিস এবং নানা মরণব্যাধিতে আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে ভেজাল এই ফলমূল খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুরও জন্ম হতে পারে।পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক, লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া, ক্যানসারসহ দীঘর্ মেয়াদি নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু এবং বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী। জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য হওয়া সত্ত্বেও ভেজালমুক্ত খাদ্য যেন দুর্লভ হয়ে উঠেছে। বিষ মিশানো ফলমুল বাজারজাত করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। মানুষ হচ্ছে নীরব হত্যাকান্ডের শিকার। এই ভেজাল সন্ত্রাসে আতঙ্কিত ক্রেতা-ভোক্তা। ভেজাল খাবার খেয়ে নিজেদের অজান্তেই অনেকের দেহে বাসা বাঁধছে নানা রকম মরণব্যাধি। বেড়ে যাচ্ছে নতুন নতুন রোগ ও আক্রান্তের সংখ্যা।

পণ্যমূল্যের এই উর্ধগতিতে কষ্টার্জিত টাকার বড় অংশ চলে যাচ্ছে অনাকাঙ্খিত চিকিৎসা খাতে। রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভেজাল খাবার খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে তাই খুব বেশি সচেতন থাকেন না। এ সব রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় আক্রান্তদের অনেকেই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে আক্রান্তদের অধিকাংশই পঙ্গুত্ব বরন করছে আথবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

বক্তারা আরো বলেন, সামনে রমাজন মাস। রমজানে এসব ফলের কদর বেশি। এই মাসেই মুসলমানরা প্রতিদিন ইফতারির সময়ে রকমারি ফল দিয়ে তাদের রমজানের ক্লান্তি দূর করেন। কিন্তু এসব ফলে ক্যামিকেল থাকায় উদ্বিগ্ন দেশের মুসলমানরা । রোগ এবং অকাল মৃত্যু থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও সামাজিক আন্দোলন থেকে শুরু করে সব কিছু করা দরকার। খাদ্যে ভেজালকে সন্ত্রাস এবং জংঙ্গীবাদের মত গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। কারণ যেই জনগনের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারের এত পরিকল্পনা সেই জনগণই যদি সুস্থ না থাকে তাহলে সব পরিকল্পনা অর্থহীন হয়ে যাবে। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্বে কাজ করতে হবে। একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন একটি সুস্থ ও প্রানোচ্ছল আগামী প্রজন্ম। তাই আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর স্বার্থে আমাদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করতে হবে।