ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ৩ রবিউস সানি ১৪৪০

ভালুকায় মিটার প্রতি ১০ হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না বিদ্যুৎ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮ ১০:৪৭ সকাল

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় তিন মাসের মাঝে বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে প্রতি মিটার থেকে দশ হাজার টাকা করে নিয়েছে স্থানীয় দালালরা।
জানাযায়, কাদিগড় নয়াপাড়ার রফিকুল ইসলাম, পাশের পাড়াগাঁও শিরিরচালার মো. আবুল হোসেন ও মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের মামারিশপুর গ্রামের আবদুল কাদির নয়াপাড়ায় তিন মাসের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার মৌখিক চুক্তিতে প্রতি মিটার মালিকের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা করে দাবি করেন। কিন্তু আমরা এখনো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না, দিবে, দিচ্ছে বলে দেড় বছর পার করে দিল। দালালরা এখনো আর ছয় হাজার টাকা করে চাচ্ছে। কথা গুলো সমস্বরে বলেন, ভালুকা উপজেলার কাদিগড় নয়াপাড়ার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। ওই টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম এবং ঘরে সংযোগ পাওয়ার পর বাকি ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় নয়াপাড়ার লোকজন প্রায় ১৮ মাস আগে ২৪ ঘন্টার মাঝে ১০ হাজার টাকা করে দালাল চক্রের সদস্য রফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, আবুল হোসেনে হাতে তুলে দেয়। এদিকে টাকা দেওয়ার পর ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যবাধি বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। এখন মিটার প্রতি আরো ৬ হাজার টাকা করে দাবি করছে ওই দালাল চক্র। অথচ একই মাস্টার প্লানের আওতায় পাশের গ্রামটি বিদ্যুতায়িত হয়েছে অনেক আগেই। গ্রামবাসী ওই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একাধিক স্থানে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সরেজমিনে গেলে, নয়াপাড়ার নূরুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার জানান, চব্বিশ ঘন্টার মাঝে টাকা না দিলে বিদ্যুুৎ পাওয়া যাবে না, হাতে টাকা নেই। বিদ্যুতের আশায় বিশ হাজার টাকা দামের দুটি ছাগল দশ হাজার টাকায় বিক্রি করে তাদেরকে দিয়েছি। লেহেম উদ্দিন বলেন, সুদে ঋণ করে বিদ্যুতের জন্য দশ হাজার টাকা দিয়েছি। সুরাইয়া জানান, আমার কানের একজোড়া ঝুমকা বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। ওই গ্রামের লাইন নির্মাণের কাজটি পেয়েছেন রাসেল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যার মলিক এমারত হোসেন। মোবাইলে কথা হলে মো.রফিকুল ইসলাম জানান, আমি টাকা তুলিনি আবুল হোসেন টাকা উঠিয়ে আমাকে দিয়েছে। আবুল হোসেন জানান, তার কাছে দেওয়া টাকা তিনি রফিক ও কাদিরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আবদুল কাদির অকপটে বলেন,টাকা ছাড়া কিছুই হয় না, একটা নতুন লাইন করতে হলে অনেক টাকা লাগেই। যে টাকা গ্রাহকদের কাছে থেকে তুলা হয়েছে সেই টাকা থেকে বিদ্যুতের লাইন অনুমোদন থেকে শুরু করে স্ট্যাকিং, ডিজাইন ও স্টোর হতে মালামাল বের করার জন্যে এক ঠিকাদার এমারত হোসেনের মাধ্যমে অফিসে ৫০ হাজার এবং লাইন নির্মাণ করে সংযোগ দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে ৫০হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার এমারত হোসেন বলেন, নয়াপাড়া লাইনের কথা বলে কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেইনি, এমন কি রফিক নামে আমি কাউকে চিনি না। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জি, এম জহিরুল ইসলাম বলেন, নয়াপাড়ার কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তবে, অনিয়মের সাথে অফিসের কেউ বা সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল বলেন, নয়াপাড়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।