ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ , , ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

ভাল মানুষ পুলক দা আমাদের মণি কোঠায়

চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৮ ২:৫১ দুপুর

এম এ হান্নান কাজল
পুলক দা একজন ভাল সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। তিনি ছিলেন আমার শ্রদ্ধার পাত্র। পুলকদা’র সাথে পরিচয় ২০১০ সালে যখন দৈনিক নয়াবাংলাতে নিয়োগ পেয়েছি সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু স্যারের সহযোগতায় তখন থেকে। যখন অফিসে গেলাম সর্বপ্রথম পুলক দার সাথে আমর পরিচয় হয়। নয়াবাংলা বলতে পুলক দাকে সবাই চেনে। যোজন যোজন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দৈনিক নয়াবাংলাকে মেধা, সততা ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দিয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। একজন সফল সাংবাদিক প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা মানুষের গল্পই যেন পুলক দার পুরো জীবন। যাঁর জন্ম চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। তাঁর মেধা, যোগ্যতা, উদ্যোগ, সৃজনশীলতা, সৌন্দর্য্যবোধ তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। বহুমাত্রিক প্রতিভা ও গুণের সমাহারে মানুষটি ব্যক্তি ইমেজ ছাপিয়ে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন আলোক সামান্য এবং সবার প্রিয় স্বপ্নসারথী। সাংবাদিকতা জীবনের দিনগুলো অনেক কষ্টের ছিলো। ক্ষুদ্র গন্ডি পেরিয়ে অদম্য সাহসে, প্রজ্ঞায়

এবং সৃষ্টির আকূলতায় বৃহত্তর পরিসরে নির্মোহ নি:স্বার্থ কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় স্থান করে নিয়েছিলেন দৈনিক নয়াবংলার গুরুত্বপূর্ণ পদ। মানুষের কাছাকাছি যাবার ধাপ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা পেশা। সুদর্শন চেহারা আর চৌকস বাচনভঙ্গি ছিল দেখার মত। নিজের কর্মদক্ষতায় স্ফুরিত স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় কাজ করে। অসংখ্য সাংবাদিকদের ভালবাসায় এবং নিজের যোগ্যতায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং কো-অপারেটিভ সোসাইটির সদস্য পদে আসীন হয়েছিলেন। সফল সাংবাদিক হিসেবে বরাবরই পুলকদা ছিলেন সমাদৃত ও প্রশংসিত। সিনিয়র সাংবাদিক শুকলাল দাশ, শামসুল ইসলাম, রতন কান্তি দেবাশীষ ও মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের প্রিয় পাত্র ছিলেন। হাতের লেখা ছিল খুবই সুন্দর, মসৃন ও নির্ভুল। স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশকে নিয়ে, চট্টগ্রাম শহরকে নিয়ে লেখনীর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেয়ার। স্বপ্নবান মানুষরা স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যান। অনেক সাহসী ভাবনার েেপছনে স্বপ্নবান পুলকদা এর মননশীল এবং সৃজনশীল কর্ম

পরিকল্পনা ছিল। স্বপ্নবান পুলকদা শুধু স্বপ্ন দেখাননি, স্বপ্নের পথে হাটার পথটাও দেখিয়েছেন। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭ তে বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট কর্তৃক আয়োজিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে পুলক দা আমাকে সহযোগিতা করেছিল। এ সময় তিনি আমাকে অনেক উপদেশ দিতেন। তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে স্বস্তিবোধ করতেন। তিনি সব সময় বলতেন সাংবাদিকরা সংঘবদ্ধ হলে অনেক কিছুই পাল্টে দেয়া সম্ভব। কিন্তু স্বাপ্নিক নন্দিত পুলকদা তাঁর সব ইচ্ছেগুলোকে বাস্তবে রূপ দেয়া এবং স্বপ্নের সফল আয়োজনের আগেই অসময়ে নিয়তির অমোঘ বিধানের অপূর্ব আর সাংবাদিকদের উন্নয়নের অসমাপ্ত কর্মস্পৃহা রেখে অনন্তযাত্রায় পাড়ি জমিয়েছেন সাংবাদিক সমাজকে কান্নার প্লাবনে প্লাবিত করে। সাংবাদিক পুলকদা আর নেই। ২৯ ডিসেম্বর’১৭ বেলা সাড়ে ৩ টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ২৯ ডিসেম্বর’১৭ দুপুরে তিনি বাসা থেকে ঔষধ কিনতে বের হলে কদমতলী তাঁর বাসভবন এলাকায় অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। পরে তাকে স্থানীয়রা এক প্রাইভেট ক্লিনিক এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি প্রাণপ্রিয় স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান রেখে পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার মুগ্ধতা ছাড়িয়েছিল সবার কাছে। ভালো বেসেছিলেন মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টানসহ সকলকে। তাঁর চেয়ে বেশী ভালবেসেছিলেন আমাকে। আজ স্মৃতি কাতরতায় এ গুণী সাংবাদিক ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে নিজের অনুভূতিগুলোকে অপ্রকাশিত রাখতে পারলাম না। লিখলাম একজন ভাল মানুষ কীর্তিমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায়। চট্টগ্রামের আমবাগান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারী প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সেখানে আমার দায়িত্ব পালনকালে পুলকদার স্ত্রীর সাথে আমার প্রথম দেখা। সেই আমবাগান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ফটো সাংবাদিক হিসেবে পুলকদা আমাকে বলেছিলেন, কাজ করে যাও একদিন বড় সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর সেই স্বপ্নের কথা, তাঁর উদ্দীপিত প্রেরণার কথাগুলো আজ বড়বেশী অনুরণিত হচ্ছে। তিনি যে মানুষকে ভালবেসেছিলেন তাদের স্মৃতি থেকে কখনও হারিয়ে যাবেন না। বিষন্ন আবেগের তাড়িত বেদনার প্রান্তরে পুুলকদা চির জাগরুক থাকবেন আমাদের স্মৃতির মিনারে। “দেয়ার ইজ নো ডিফারেন্স ম্যান এন্ড ম্যান” শান্তিতে থাকুন পরকালে, পুলকদা সেলুট আপনাকে। লেখক: চিত্র সাংবাদিক ও জাতীয় কারাতে প্রশিক্ষক ও বিচারক।