ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

ভ্রাম্যমান দোকানে প্রযুক্তির ছোঁয়া

জামালপুর প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৮ ২:২৭ দুপুর

যেখানে সূর্যের আলো, সেখানেই বিদ্যুৎ। আধুনিক প্রযুক্তির এমন ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চল। তেলের কুপি আর হেরিকেনের আলোয় নির্ভরশীল সৌর-বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোর প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এখন আর পিছিয়ে নেই কেউ। সময়ের আবর্তনে ভ্রাম্যমান দোকানেও সোলার প্যানেল রুজি রোজগারের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনি প্রযুক্তির বিকল্প ভাবে ছোয়া পাচ্ছে জামালপুরের ইসলামপুরে সোহেল মিয়ার ভ্রাম্যমান মনিহারি দোকান। বিক্রেতা যেখানে দোকান নিয়ে যাচ্ছে, সেখানেই পাচ্ছে সোলারের আলো। এর সুবাদে জীবন-জীবিকাতেও লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। ব্যবহার করতে পারছে মোবাইল ফোন।
খবরের খোজে হঠাৎ পাথর্শী ইউনিয়নের ঢেংগারগর শিমুলতলা বাজারে দেখা মেলে এমন ভ্রামমান দোকান। প্রায় ১০বছর থেকে ভ্রাম্যমান ভাবে রোজগার করে আসছে সোহেল মিয়া। রুজি রোজগারে অনেকটাই একঘেঁয়ে দরিদ্রতায় ভরা জীবন। সামান্য পুজি নিয়ে স্থায়ীভাবে কোথাও দোকান দেওয়ার সামর্থ নেই। তাই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিত রাত বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এভাবেই ব্যবসা করে দিনাতিপাত করছে।
সোহেল মিয়া জানায়, সামান্য পুজি দিয়ে ব্যবসায় কোনমত দিন চলে। বাজারে দোকান ভাড়া নিতে অনেক টাকার দরকার। সে সমর্থ আমার নেই । আবার রাস্তার ধারে বসে রাতের বেলায় আলো নেই। প্রতিদিন জেনারেটর ভাড়া দিয়ে আমার পুষে না। তাই সূর্যের আলোয় সৌর বিদ্যুৎ চালিয়ে একদিকে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বেচাবিক্রি করতে পারছি। অন্যদিকে রাতে বাজারে পর্যাপ্ত আলো পেতে আর কোন সমস্যা হয়না।
ভ্রাম্যমান দোকানে সোলার প্লান্ট স্থাপন করে সৌর-বিদ্যুতের কল্যাণে রাতের আঁধার দূর হয়েছে। দোকানে ছোট ফ্যান ঘুরছে । মোবাইল ফোন চার্জ দিতেও সমস্যা হচ্ছেনা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া দূর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় ১৭হাজার শিক্ষার্থীকে সোলার হ্যারিক্যান দেওয়া হয়েছে। এই সোলার হ্যারিক্যান পেয়ে বিদ্যুৎ বিহীন গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে। নি¤œবৃত্ত পরিবার যাদের নুন আনতে পানতা ফুরানো দূর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আসলাম জানায়, তেল ফুরিয়ে গেলে অথবা ঝড় তুফান এলে বাতাসে হেরিকেনের আলো নিভে যেত। নিরুপায় হয়ে আমাদের অন্ধকারে থাকতে হতো। সৌর বিদ্যুৎ হ্যারিকেন পাওয়ায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আমারা আলো জ্বালিয়ে রাখতে পারি।
এলাকাবাসী জানান,বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে গেছে। সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা আইপিএস চালাই। আইপিএস দিয়ে ডিভিডি, সাউন্ড বক্স, ফ্যানসহ সব কিছু চালাই। উপরের মানুষ যেমন বিদ্যুৎ সুবিধা পায় আমরাও ঠিক একই রকম বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ বাস্তায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে ডিজিটালে পরিণত করা। সোলার হ্যারিকেন এবং সৌর প্লান ব্যবহার করে তারা সেখানে লাইট জ্বালাচ্ছে, ফ্যান চালাচ্ছে, এমনকি ল্যাপটপ ব্যবহার করছে। সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে যে ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লেগেছে এটি তার একটি উদাহরণ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সকল শিক্ষার্থীদের অন্ধকার থেকে এগিয়ে নিতে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা জানান তিনি।
লিয়াকত হোসাইন লায়ন
জামালপুর