ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

মুজিবপাগল মানুষের ভালবাসার আর্দ্রতায় সৃষ্ট ‘আওয়ামী লীগ পরিবার’

নূর মোহাম্মদ । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৮ ৩:৩২ দুপুর

দোহা (কাতার) থেকে ::  একজন কাতার প্রবাসীকে চিনি যিনি অল্প বেতনের চাকুরী করেন, জীবনের অন্যান্য বিলাসিতা বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতি বছর ১৫ অগাস্ট দেশে গরু জবাই করে যিয়াফত করান ও এতিমদের খাওয়ান। এক বছর হাতে টাকা ছিল না, স্ত্রীর জন্য শেষ সম্বল স্বর্ণ-অলংকার বিক্রি করে যিয়াফত করিয়েছিলেন।
 যে মাটি বঙ্গবন্ধুর রক্তে রঞ্জিত, সেই মাটিতে জুতা পায়ে হাঁটাকে বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে অবমাননা মনে করে দীর্ঘ ২০ বছর  খালি পায়ে হাটা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মির্জাচর গ্রামের বাদল মিয়া।
 ময়মনসসিংহের গফরগাঁও উপজেলার অজপাড়াগাঁর এই হাসমত আলী, দরিদ্র রিকশা-ভ্যানচালক। সারা জীবনের সঞ্চয়ের টাকায় নিজের নামে নয়, স্ত্রী-পুত্রের নামে নয়; তিনি একখণ্ড জমি কিনেছিলেন বঙ্গবন্ধুর এতিম কন্যা শেখ হাসিনার জন্য। হাসমত আলীর মৃত্যুর পাঁচ বছর পর সেই ভালোবাসার খবর ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়।
 শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্র কুড়া ইউনিয়নের মকবুল হোসেন, বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি শুধুমাত্র কালো পোশাক পরে জীবন কাটিয়েছেন ৪০ বছর।
 রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার নরসুন্দর গোপাল চন্দ্র শীল বিনা পয়সায় মুক্তিযোদ্ধাদের চুল কাটেন। গোপাল চন্দ্র শীল বলেন বঙ্গবন্ধুকে আমি হৃদয়ে ধারণ করি। ওনাকে ভালোবেসেই মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চুল কাটি।’
 ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু নিরাপদে দেশে ফেরত আসা পর্যন্ত প্রায় এক বছর প্রতিদিন রোজা ও প্রতি ওয়াক্তে নফল নামাজ আদায় করতেন কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ বড়বেড় দ্বীপচরের আবদুস সোবাহান।
 ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে দেওয়া একটি কম্বল আগলে রেখেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রূপপুর মহল্লার আব্দুর রহিম।
 ২০০২ সালের ৫ মে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ শতাংশ বঙ্গবন্ধুর নামে দান করে দেন বরিশালের উজিরপুর থানার পশ্চিম শোলক গ্রামে চা বিক্রেতা আব্দুর রব মিয়া। চায়ের দোকানে বসেই দিনের অধিকাংশ সময় তিনি অতিবাহিত করেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে।
 বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দার আলী বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত একটি চেক ব্যাংক থেকে টাকা না তুলে সযত্নে রেখে দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দরিদ্র কৃষক সেকান্দার আলীকে তিন হাজার টাকা অনুদানের চেক দিয়েছিলেন।
 মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হিঙ্গাজিয়া গ্রামের রেণু মিয়ার ছেলে কাঠমিস্ত্রি আতিক হাসান বঙ্গবন্ধুর মহাভক্ত। দীর্ঘ পাঁচ বছর পরিশ্রম করে ১০ মণ ওজনের দৃষ্টিনন্দন একটি চেয়ার বানিয়েছেন তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্য।

এসব মুজিবপাগল ও মুক্তিপাগল মানুষের ভালবাসার আর্দ্রতায় অবয়বে সৃষ্ট “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিবার”। পিছনের দুয়ার দিয়ে আসা কোন সেনাকর্মকর্তার অস্ত্র সজ্জিত কল্পনাপ্রসূত সৃষ্ট “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ – জনগনের দল, স্বাধীনতাকামী মানুষের দল, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সোপান; কোন দুর্দশা ও দুর্ভোগ প্রসূতির প্রতীক নয়। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে এসব সাধারণ মানুষের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে আশা করছি।

সূত্র : ফেসবুক ওয়াল

# লেখক : সাধারণ সম্পাদক-বাংলাদেশ লেখক-সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশন,  কাতার এবং সাধারণ সম্পাদক-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাতার শাখা।