ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ , , ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

যে কারণে বাদ সৌম্য-তাসকিনরা

স্পোর্টস রিপোর্টার । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৮ ৮:৩২ সকাল

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পাঁচ ক্রিকেটার সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস, মুমিনুল হক ও শফিউল ইসলাম নেই দেশের মাটিতে অনুষ্ঠেয় তিন জাতি ওয়ানডে সিরিজে। তাদের বাইরে রেখেই জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য গতকাল ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে নতুন কোনো মুখ না থাকলেও ফিরেছেন এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন ও আবুল হাসান রাজু।

দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে ওই পাঁচজনের বাদ পড়া নিয়েই প্রশ্ন উঠল। প্রথমেই প্রশ্ন উঠল জাতীয় দলের দুই নিয়মিত মুখ সৌম্য সরকার ও তাসকিনের বাদ পড়া প্রসঙ্গে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ বলা হতো এ দুই তরুণ ক্রিকেটারকে। দিনের পর দিন ফর্মহীনতায় ভুগলেও কোচ-নির্বাচকদের আস্থা ছিল তাদের ওপর। কিন্তু এবার সেই জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে গেল।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সোজাসাপ্টাই বললেন দুইজনকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কারণ, ‘সৌম্য সব ফরম্যাটেই কিছু দিন ধরে খেলে যাচ্ছে। ওর প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ধারাবাহিকতার মধ্যে নেই বলেই আমরা একটা বিরতি দিয়েছি। সিস্টেমের মধ্যেই আছে। সে পুলভুক্ত খেলোয়াড়। আশা করি ধারাবাহিকতায় থাকবে, পরে আবার বিবেচনা করা হবে।’ মানসিকভাবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্যই সৌম্যকে ব্রেক দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়েই তাকে একটা ব্রেক দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করেছি। মানসিকভাবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচে সৌম্যর কিছুটা ব্রেক প্রয়োজন। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা খুব কঠিন জিনিস। একবার যদি ব্রেক-ডাউন হয়, তাহলে এটা ফিরে পাওয়া খুব কঠিন। ও যথেষ্ট ট্যালেন্ট খেলোয়াড়। বেশ কিছু ভালো ইনিংস দেশের জন্য খেলেছে। আমি আশা করি খুব দ্রুত সে ক্যামব্যাক করতে পারবে।’

এছাড়া অফ ফর্মে থাকা লিটন দাসের দিকেও নির্বাচকদের দৃষ্টি কম ছিল। ওয়ানডেতে লিটনকে বিবেচনায় না আনার কারণ লিটনকে শুধু টেস্টে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন নির্বাচকরা। সেটা প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যায় পরিষ্কার, ‘লিটন দাসকে সব সময় আমরা টেস্ট ম্যাচের জন্য বিবেচনা করেছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ ভালো খেলার কারণে আমরা ওকে রেখে দিয়েছিলাম। কারণ এখানে আসা-যাওয়ার ঝামেলা ছিল। সে সঙ্গে কন্ডিশনের সঙ্গে থেকে আরও কিছু শেখার ব্যাপার ছিল এজন্য রেখে দিয়েছিলাম। সে সবসময় আমাদের লংগার ভার্সনের চিন্তায় আছে।’ পেসার তাসকিন আহমদেরও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের খুশি করতে পারেনি।

তার বাদ পড়া প্রসঙ্গে নান্নু বলেন, ‘তাসকিন আহমেদ সাউথ আফ্রিকা সফরে ফর্মে ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটে লংগার ভার্সনে কিছু ম্যাচ খেলারও দরকার আছে তার। সে হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

ক্রিকেটের তিন সংস্করণে খেলার প্রতিভা থাকলেও নির্বাচকরা এক রকম টেস্ট ব্যাটসম্যানের ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছেন মুমিনুলের গায়ে। অবশ্য এ ট্যাগটা লাগিয়েছেন সাবেক কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। তাই অনেকেই আশায় ছিলেন, হাথুরুসিংহের পরবর্তী সময়ে হয়তো আবার তিন সংস্করণেই দেখা যাবে মুমিনুলকে। কিন্তু হাথুরুসিংহে যাওয়ার পরও ভাগ্য খুলল না এ ব্যাটসম্যানের। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দলেই ছিলেন।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর হাথুরুসিংহের ওয়ানডে দলে ওটাই প্রথম থাকা। তবে তিন ম্যাচের সিরিজের একটি ওয়ানডেরও একাদশে সুযোগ হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে হঠাৎ করেই কেন মুমিনুলকে ওয়ানডে দলে নেওয়া আর এবার আবার বাদ দেওয়া হলো। এ নিয়েও প্রশ্নের জবাবে। প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই মুমিনুল আমাদের ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি দলে নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তামিমের ইনজুরির কারণে একটা অনিশ্চয়তা ছিল। আর এত দূরে দক্ষিণ আফ্রিকায় যেহেতু ও টেস্ট দলের সঙ্গে ছিল এজন্যই তাকে রেখে দিয়েছিলাম। তখন যদি জরুরিভিত্তিতে অতিরিক্ত কাউকে লাগে তাই রেখে দিয়েছিলাম।’ অথচ ওয়ানডে ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুমিনুলের।

২০১২ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেন তিনি। ২৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে তাতে ২৩.৬০ গড়ে করেছেন ৫৪৩ রান। ২০১৫ সালে মেলবোর্নে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেন মুমিনুল।