ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

শেখ হাসিনাই হবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান: গাজীপুরে তোফায়েল আহমেদ

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৮ ৩:২৯ দুপুর

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে একদিনে এক লাখ লোক মারবে। তাই সামনের নির্বাচন হবে খুব কঠিন । নির্বাচনকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র করার পাঁয়তারা করছে। কাজেই নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে দলের মনোনয়ন কে পাবে, আর কে পাবে না তা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ জানেনা। কারণ কাকে কোন জায়গায় রাখতে হবে দলনেত্রী তা ভাল বুঝেন। তবে মনোনয়ন যেই পান, তিনি শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। কাজেই নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি ৮ অক্টোবর সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ও ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, আগরতলা মিথ্যা মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা ছিল। আর বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে সেই দিন ময়েজউদ্দিন চারণের মত সারাদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বঙ্গবন্ধু তখন জেলে। সেই অবস্থায় ময়েজউদ্দিনের নেতৃত্বে ফান্ড তৈরি করে আগরতলা মিথ্যা মামলা পরিচালনার ভার নেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভাঙ্গা দলকে জোড়া দিয়ে যারা সু-সংগঠিত করেছেন শহীদ ময়েজউদ্দিন তাদের মধ্যে অন্যতম। ওইদিন কেউ ছিলনা বিধায় দলের প্রতি নিবেদিত হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর এ জন্য তিনি ঘাতকের হামলায় শহীদ হন।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি ভূঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, যুবলীগের সদস্য অধ্যাপক আমজাদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গতঃ, ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশে ২২ দল হরতাল আহ্বান করে। ওইদিন গাজীপুরের কালীগঞ্জে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মিছিলে শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্ব দেন। ওই সময় কালীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি’র পিতা।