ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ২ রবিউস সানি ১৪৪০

শ্রমিকদের কি সুষ্টু মূল্যায়ন হবে না!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৮ ১২:৫৮ দুপুর

বর্তমানে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যে দেশের মূল অবদান রেখেছে পোশাক শিল্পে। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এই পোশাক শিল্প থেকে, বাংলাদেশ প্রায় ৪০০০ পোশাক শিল্প কারখানা রয়েছে, যাতে নিয়োজিত রয়েছে ৪১ লক্ষ শ্রমিক।
বর্তমানে একজন শ্রমিকের বেতন মাত্র ৫০০০ টাকা, ১ জানুয়ারী ২০১৪ তারিখে সর্বনি¤œ মাসিক মজুরী ৫৩০০ টাকা করেছে।
সরকার তা ৮০০০ টাকা দিতে বাধ্য করেছে মালিক পক্ষকে, শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ন্যুনতম মজুরি হিসেবে ১৩০০০ টাকা দাবি করছে।
বিজিএমএ এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ৮০০০ টাকা মজুরি দিতে একমত হয়েছে মালিক পক্ষ, কিন্তু মালিক পক্ষের এই প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য বলছে না বিলস।
নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ বলেন, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে কি জন্য? মজুরি পূর্ণবিবেচনা করার জন্য মজুরি কমানোর জন্য নয়!
বিআইডিএস বলেন- বিজিএমএ এর প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রকৃতি বেতনের চেয়ে ১০ শতাংশ কম, ন্যূনতম বেতন হওয়া উচিত ৭.৭০০ টাকা। “ঞযব অংরধ ঋড়ঁহফধঃরড়হ” ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান [ইধহমষধফবংয খবমধষ অরফ ধহফ ঝবৎারপব ঞৎঁংঃ] শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে [ঝঃৎবহমঃযবহরহম মধৎসবহঃং ডড়ৎশবৎং] শিরোনামে কাজ করে যাচ্ছে।
শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রম ও শিল্প আইন প্রতিষ্টিত হওয়া জরুরী, একটি দেশের মোট অর্থনীতি ব্যাপকভাবে শিল্প খাতে নির্ভর করে, শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ পরিচালনা কমিটি এবং সঠিক আইন থাকা অপরিহার্য, শিল্পে শান্তি বজায় রাখতে কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো দেখা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করতে হবে।
কিন্তু বর্তমানে শ্রম আইনগুলোতে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আমাদের দেশের শ্রমিকরা সঠিক অধিকার পায়না বিভিন্ন বিশেষকদের গবেষনার পর কিছু সুপারিশ নিয়ে আসে যার মাধ্যমে শ্রম আইনে শ্রমিকদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি করা হয়।
দাবি ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমান শ্রম আইন শ্রমিকরা শিল্প ক্ষেত্রে ১২-১৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে শুধুমাত্র তাদের জীবন যাত্রার মান সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য কিন্তু শ্রমের বিনিময়ে তারা সেই মজুরিটা পায় তা দিয়ে বর্তমান উর্ধ্বগতিমূলক বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে না পারছে পরিবারকে সুন্দরভাবে চালাতে, না পারছে সন্তানকে মানুষ করতে।
পরিবারের সবাইকে সঠিক খাবারের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে যার কারণে দিন দিন গড়ে উঠছে পুষ্টিহীন এবং দুর্বল সন্তান যা ভবিষ্যতে কালসাপ হয়ে দাঁড়াবে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে, বর্তমানে গার্মেন্টস মালিকদের গাফিলতি আর দূর্বল ইমারত তৈরি করার জন্য দিন দিন ঘটে চলেছে ভয়াবহ দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার শ্রমিক কিন্তু এই শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পর্যন্ত পায় না লাশ নিয়ে মিছিল করতে হয় পরিবার এবং সহকর্মীদের।
আমরা চাই শ্রমিকদের জন্য এমন আইন তৈরি করা হোক যাতে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের উপর কোন প্রভাব কাটাতে না পারে। শ্রমিকদের সকল বিষয় আইনে আওতায় এনে এবং শ্রমিকরা যাতে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে পারে সেই ব্যাপারে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক
রহিম উল্লাহ –
মুনতাসির মুন
উম্মে তৈয়্যবা
সামিরা জাহান
জাহেদ হোসেন
৩৫ তম ব্যাচ
আইন বিভাগ
প্রিমিয়ার বিশ বিদ্যালয়