ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , , ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সমগ্র চট্টগ্রামে উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও সিডিএ’ র সামনের ফুটপাতের অবস্থা নাজুক

মোঃ কামাল হোসেন, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ ২:৩৬ দুপুর

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম নগরীকে আধুনিক বিশ্বের অন্যান্য নগরীর ন্যায় সুন্দর ও মান সম্মতভাবে বসবাস যোগ্য মেগাসিটি করার দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ শুরু করার কথা বললেও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর সামনের রাস্তার ফুটপাতের ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময় পরিবেশের ভিন্নচিত্র দেখে অনেকেই ধারণা করবে চট্টগ্রামে কিছুই হয়নি। সিডিএ’র সামনের রাস্তার ফুটপাতকে ডাস্টবিন ও উম্মুক্ত গণসৌচাগার মনে করে সেখানে বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়। ফুটপাতে যারা রাত্রিযাপন করে তারা রাত্রে সেখানে মল ত্যাগ করে। অনেকেই ফুটপাতটিতে দোকান বসিয়ে যৌন উত্তেজক ও অনেক প্রকার ভেজাল ঔষধ বিক্রি করছে।
অন্যদিকে সিনেমা প্যালেস এর আশে পাশে কেসিদিএ রোড হয়ে শহীদ মিনার, আমতলা পর্যন্ত রাস্তর দুধারে যৌন উত্তেজক ভেজাল ঔষধ বিক্রী চলছে অবাধেই। যৌন কর্মীদের আহবান মুলক বিভিন্ন কর্মকান্ড লক্ষ্য করা যায়। রাত বারোটার পরে আন্দরকীল্লা নজির আহমদ চৌধুরী রোডের বন বিভাগের সামনে যৌনকর্মীদের চিল্লাচিল্লিতে সে এলাকার মানুষের আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বন বিভাগের পাশের স্থায়ী বাসিন্দা নাসিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে রাত বারোটার পরে যৌন কর্মীদের যে অবস্থা তা দেখে মনে হয় আমরা যেন পতিতালয়ে বসবাস করছি। তাদের কারণে এ এলাকার মানুষ রাত্রে ঘুমাতে পারে না। তাদের কোন কিছু বলতে গেলেই বিপদ। অনেক সময় পুলিশের পোশাকধারী লোক এসে যৌন কর্মীদের সাথে কথা বলতেও দেখা যায়। মনে হয় তাদের সাথে কোন যোগসুত্র আছে। আমরা এর থেকে পরিত্রান চাই।

নগরীর কাজির ডেইরী এলাকার ভিআইপি টাওয়ার এবং আলমাস সিনেমা হলের সামনের অবস্থা আরো জটিল। কুমিল্লার এক ব্যবসায়ী (৪০) নাম গোপন রেখে বলেন, তার ভাই ওয়াকিম (২৫) কে নিয়ে ভি আই পি টাওয়ারের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোটাসোটা সাইজের এক যৌন কর্মী তাদেরকে একটা ভিজিটিং কার্ড নিতে বলে এবং ফোন করতে বলে। এ সময় তারা খুব লজ্জা পায় এবং বিব্রত অবস্থায় পড়ে যায়, এতে তাদের মানহানী হয়েছে বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য রাস্তাঘাটে যৌন কর্মীদের অবস্থান বন্ধ করতে প্রশাসনের নিকট দাবী জানান।

যৌনকর্মীরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে খদ্দর সংগ্রহ ও যৌন উত্তেজক ভেজাল ঔষধ বিক্রীর সরকারী কোন অনুমোদন যৌনকর্মী ও দোকানদারদের না থাকলেও এক্ষেত্রে তারা থানার অসাধু পুলিশকে মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিশেষ সুত্রে জানা যায়। চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার পাশে সিডিএ’র মতো একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময় ফুটপাতে যৌন উত্তেজক ভেজাল অনুমোদনহীন ঔষদ বিক্রয় ও বিভিন্ন দোকান বসিয়ে জনগনের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টিতে জনগন সহজে মেনে নিচ্ছে না। এব্যাপারে যাতায়াতরত জনগন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আজম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ সালামের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন এলাকাবাসি।