ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , , ৮ মুহররম ১৪৪০

সরকারের হাতে শত বছরের পরিকল্পনা : রংপুরে উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সোহেল রশীদ,রংপুর । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ ৪:৫২ দুপুর

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,বাংলাদেশ শত বছর পরে কিভাবে থাকবে সে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। তিনি আরও বলেন রংপুর ও গাজীপুর মেট্রেপলিটনের খুলে দেয়ার কারনে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিমূলে পুলিশ বাহিনীর ভূয়সী প্রশাংসা করেন তিনি। বাংলাদেশ এখন বিশে^র কাছে রোল মডেল। তিনি বলেন, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন খুলে দেয়ার কারনে ওই এলাকার মানুষ পুলিশি সেবা খুব সহজেই পাবে। আগে উত্তর বঙ্গের মানুষ অবহেলিত ছিল। তারা আর অবহেলিত নয়,আমরা রংপুরকে বিভাগ করে দিয়েছি। সেখানে বিশ^ বিদ্যালয়, ইপিজেড করে দিয়েছি এখন ওই এলাকায় শিল্প অঞ্চলে পরিনিত করার পরিকল্পনা আছে এ সরকারের। রোববার সকাল ১১ টায় রংপুর মহানগরীর বুড়িরহাট কদমতলীতে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনন্স মাঠে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিটনের উদ্বোধন কালে এ সব কথা বলেন।
এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৪(পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের এমপি টিপু মুনশি, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি, রংপুর মেট্রোপুলিশের কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচায্য, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বেরোবির উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামলীগৈর সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সেক্রেটারি তুষার কান্তি মন্ডল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড.ছাফিয়া খানম, কমিউনিটি পুলিশিং রংপুর জেলা ও বিভাগীয় সম্বনয় সুশান্ত কান্তি মন্ডল, পীরগঞ্জ পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম, হারাগাছ পৌর মেয়র হাকিবুর রহমান মাস্টার, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রামানিক, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনিসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা পুলিশ লাইন স্কুল মাঠ থেকে র‌্যালী বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারোও সেখানে গিয়ে শেষ হয়। এর পরে গঙ্গাচড়ার মহিপুরে শেখ হাসিনা সেতুরও উদ্বোধন করা হয়। সেখানে এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এমপি, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম, উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলুসহ আওয়ামীলীগ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দীর্ঘ প্রত্যাশার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কার্যক্রমের উদ্বোধন নিয়ে উচ্ছসিত সাজ সাজ রবে ছিল নগরবাসী। বাহারি রঙের পতাকায় ছেয়ে গেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো। নতুন থানাগুলোতে আলোক স্বজ্জ্বায় প্রজ¦লিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে নগরীতে সাটানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। নতুন পোষাকে নতুন মুখের সংযোজনে কার্যক্রম শুরু হয় আরপিএমপি’র কার্যক্রম। একজন পুলিশ কমিশনার, একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, দুই জন উপ-পুলিশ কমিশনার, একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, পাঁচ জন সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ চারশত সত্তর জন পুলিশ সদস্য নিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে ৪৭টি। ২৩৯ দশমিক ৭২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই মেট্রোতে কোতয়ালি, পরশুরাম, হাজিরহাট, হারাগাছ, তাজহাট ও মাহিগঞ্জ থানা ছাড়াও আরো দুইটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি রংপুর সফরে এসে ‘রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ১ হাজার ১৮৫টি পদ এবং ১২৩টি যানবাহন অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে বর্তমান সরকার। ২০১৮ সালে আইন পাস হয় এবং চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
উদ্বোধন স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম । বুড়িরহাট রোড়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ লাইন্স মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়। সেই প্যান্ডেলে আমন্ত্রিত অতিথিরা বসেন। উদ্বোধনের পর বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে নিয়ে নগরীতে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, নগরবাসী যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে। সাধারন মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। এবং উন্নত জীবন যাপনের জন্য মানুষের সকল সুযোগ সুবিধা করে দিবে পুলিশ বাহিনী। , হয়রানিমুক্ত, আইনি সেবা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ছাড়াও একটি সুন্দর নগরী গড়তে যা যা প্রয়োজন মেট্রোপলিটন পুলিশ তা করবে। এজন্য নগরবাসীর সহযোগিতা চান তিনি