ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

সেনাবাহিনীতে চাকরির নামে প্রতারণা : গ্রেপ্তার ৮

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮ ১০:৪২ সকাল

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকতে সেনাবাহিনীর সতর্কতার পরও একটি অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এমনই একটি প্রতারক চক্রের আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

চক্রটির একজন নিজেকে পরিচয় দিত সেনাবাহিনীর মেজর। অন্যজন ডিজিএফআইয়ের ভুয়া কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে তারা চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবকদের সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তবে শেষমেশ চক্রটি ধরা পড়ে র‌্যাবের জালে।

রবিবার ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-২ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জামাল (৩৪), সৈকত নিলয় (২৬), সাজ্জাদ হক সৌরভ (২৪), নাজমুল আলম ভূইয়া (২৯), মাসুদ মুন্সি (৩৫), শামীম আহম্মেদ (২৮), মাসুদ রানা (২৩) এবং শাকিল আহম্মেদ (২৭)।

তাদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর উর্দি, নগদ টাকা, ভুয়া নিয়োগপত্রসহ বেশ কিছু মোবাইল, সিমকার্ড, পেনড্রাইভ, পাওয়ার ব্যাংক উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, এই চক্রের প্রধান পরিকল্পনাকারী সৈকত নিলয়। তিনি সেনাবাহিনীর পোশাক পরে নিজেকে মেজর হিসাবে পরিচয় দিতেন। আর এভাবে সাধারণ ছাত্র, বেকার যুবক, দরিদ্র ছাত্রদের সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত।

এ জন্য তিনি প্রাথমিকভাবে টার্গেট করা চাকরি প্রত্যাশী ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর একটি নিয়োগপত্র দেখাত এবং চাকরি দিতে পারবেন বলে জানাত। চাকরি প্রত্যাশিরা রাজি হলে চক্রটি মোটা অংকের টাকা দাবি করত। টাকা পরিশোধ হলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্রে নিজের স্বাক্ষর বসিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে চাকরি প্রত্যাশী ব্যক্তির কাছে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দিত।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব আরো জানায়, এই ধরনের প্রতারণার বেশ কিছু অভিযোগ আসছিল। চক্রটিকে ধরতে রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, বসুন্ধরা ও মিরপুর থেকে অভিযান চালানো হয়। পরে আগারগাঁও পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সামনে থেকে ভুয়া মেজর পরিচয় দেওয়া চক্রের অন্যতম জামালকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সাজ্জাদ হক সৌরভ এই চক্রের দ্বিতীয় পরিকল্পনাকারী। তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন। চাকরি প্রত্যাশী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভেরিফিকেশনের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে সৈকত নীলয়ের যোগসাজশে ডিজিএফআইয়ের মনোগ্রাম ও সিল ব্যবহার করে চাকরি প্রত্যাশী ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট পাঠাতো। আর এভাবেই প্রতারণা করে আসছিল তারা।