ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , , ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের নিখোঁজ সঙ্গীত শিক্ষক মনিকা রাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮ ৩:২৩ দুপুর

অপহরণ নয় নিজের ইচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের নিখোঁজ সঙ্গীত শিক্ষক মনিকা বড়ুয়া রাধা। শুধু তাই নয়, সেখানে গিয়ে বিয়ে করে নাম বদলে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারতের নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিক (৩৫) এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় মনিকা বড়ুয়া রাধার। পরিচয় প্রেমে রুপ নিলে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য গত ১২ এপ্রিল শ্যামলী পরিবহনের গাড়িতে মনিকাকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্তে যান কমলেশ। পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় সেখানে অবৈধভাবে তাকে সীমান্তের ওপারে ভারতে নিয়ে যান। কলকাতায়ে একটি মন্দিরে বিয়ে করেন তারা। পরে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংসার পাতেন। মনিকা নাম বদলে নেন অনামিকা মল্লিক। স্বামীর সূত্রে স্থানীয় আধার কার্ডও পান তিনি।

তদন্তের সূত্র ধরে কমলেশের খোঁজ পান বলে জানান আমেনা বেগম। জানা যায়, ব্যবসার কাজে ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। পরে গত ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দেন তিনি।

কমলেশের মাধ্যমে মনিকাকে কৌশলে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম আরো জানান, মনিকা অপহরণ হয়েছেন অভিযোগ করে তার খোঁজ পেতে যে বোনেরা এতোদিন মানববন্ধন করেছেন তারা সবই জানতেন। ভারত থেকে বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মনিকা। এমনকি বাড়ি ছাড়ার আগে দুই মেয়েকে বলেও যান তিনি। কিন্তু পুরো তদন্তে মনিকার মেয়ে বা বোনরা কেউ পুলিশকে কোনো সহযোগীতা করেননি বলে জানান আমিনা বেগম।

তিনি বলেন, মনিকা পুলিশকে জানিয়েছেন, অপহরণ নয়, তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু তার খোঁজে অপহরণ মামলা হয়েছে, সেহেতু মনিকা এখনো পুলিশের কাছে ভিকটিম। একইসঙ্গে তিনি আসামি। সে কারণেই তাকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার উত্তর মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপ কমিশনার উত্তর মো. কামরুজ্জামান।

চট্টগ্রামের সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী মনিকা (৪৫) গত ১২ এপ্রিল লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে গান শেখানোর জন্য বের হয়েছিলেন, এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ বিষয়ে দেবাশীষ গত ১৩ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ২৮ এপ্রিল অপহরণ সন্দেহে মামলা করেন দেবাশীষ। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। দুই মেয়ের জননী মনিকা চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গান শেখাতেন।