ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ , , ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

‘সড়ক-মহাসড়কের উপর কোরবানি পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না্’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮ ৪:৫৭ দুপুর

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কের উপর কোরবানি পশুর হাট বসতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা।

শনিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে হালিশহর জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা নিয়ে গণমাধ্যম, সূধীজন, হাটের ইজারাদার ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা পুলিশ।

সভায় পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কের উপর কোরবানি পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না্। পশুর হাট বসবে নির্দিষ্ট জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক পশুর হাটে আমাদের লোকজন থাকবে। হাটে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জালনোট সনাক্তকরণ মেশিন থাকবে। জেলা পুলিশের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থাকবে। আমাদের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে জেলায় কোনো ধরণের ঘটনা না ঘটে।’

পরিবহন নেতাদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনারা অনভিজ্ঞ, লাইসেন্সবিহীন কাউকে গাড়ি চালানোর জন্য দিবেন না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামাবেন না। ঈদের সময় গাড়ির চাপ থাকবে। এতে দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

ঈদে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া সড়কে কোনো গাড়ি তল্লাশি করা হবে না বলেও ঘোষণা দেন নুরেআলম মিনা। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থানা পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়া গাড়ি থামানো যাবে না। যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে তল্লাশি করতে হবে। সাধারণ যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারেে এজন্যই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ভাঙা সড়ক ও নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে সভায় উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এসব সড়ক মেরামতের অনুরোধ জানাবেন বলে জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সবাই ডিউটিতে থাকবে। থানা ও ফাঁড়ির নিয়মিত ডিউটি ছাড়াও প্রত্যেক থানা ও ফাঁড়ি এলাকায় দুটি করে মোবাইল টিম, পাঁচটি বিশেষ টিম ও চট্টগ্রামে তিনটি কুইক রেসপন্স টিম মাঠে থাকবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মোহাম্মদ রেজাউল মাসুদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) ছত্রধর ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মনজুর আলম, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির মহাসচিব আবু মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ মুছা।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভূঁঞাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।