ঢাকা, রোববার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯ , , ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০১৯ ১২:৫৪ দুপুর


সুনামগঞ্জে ৬বছরেও চালু হয়নি প্রায় ৪কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক জগদল হাসপাতাল

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ৬বছরেও চালু হয়নি প্রায় ৪কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক জগদল হাসপাতালটি। চালু না হওয়ায় জগদল ও কুলঞ্জ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ সুচিকিৎসা সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে স্থানীয় হাতুরি ডাক্তারের শরনাপন্ন হচ্ছেন প্রতিদিন। প্রায় ৪কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেয়ায় উদ্বোধনের পর থেকেই হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। অপরদিকে অযতœ-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসা উপকরণ। অথছ উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে ৬বছর পূর্বে জগদল ইউনিয়নের মধ্যস্থল জগদল বাজার সংলগ্ন এলাকায় ২০শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ৬বছর পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী আজও কাংক্ষিত সেবা পায় নি। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানাযায়,২০০৬সালে ২০শয্যাবিশিষ্ট ওই আধুনিক হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষে ২০১৩সালে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু জনবলের অভাবে ৬বছরেও চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা যায় নি। এই হাসপাতালটি অন্তত ৪০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। অত্যাধুনিক এই হাসপাতালে চিকিৎসক,নার্স,ওয়ার্ডবয়,অফিস সহকারী ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্টসহ ১৩টি পদ থাকলেও একটি পদের এখনো নিয়োগ দেওয়া হয় নি। ৬বছরেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হাসপাতাল ভবনটিই এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। ভবন থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। মরিচা ধরেছে লোহার গ্রিলে। ভেঙ্গে পড়েছে জানালার কাঁচ। ভবনের চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান আসবাব ও যন্ত্রপাতি। এমনকি এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহেরও কোনো ব্যবস্থা হয় নি। হাসপাতালের প্রধান গেট,স্টোর রুমসহ ৫টি ভবনের সব কক্ষেই তালা ঝুলছে।
এলাকাবাসী জানান,অনেকেরই চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। আমাদের এলাকায় যাতায়াতের ব্যবস্থা বর্ষায় নাও হেমন্তে পাও। এ হাসপাতালটি চালু হলে চিকিৎসা সংকটের সমাধান হতো। চালু না হওয়ার কারণে আমাদের স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন,হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও জনবল নিয়োগ দেয়া হয় নি। যার জন্য এর কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস বলেন,প্রায় ৬বছর আগে জগদল ২০শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বোধনের পর থেকে জনবলের জন্য হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। জনবলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বার বার যোগাযোগ করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ