ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , , ৬ সফর ১৪৪০

হ্রাস পাচ্ছে বোয়ালখালীর বাঁশ ও বেতের তৈরী গৃহস্হালি সামগ্রীর চাহিদা

মোঃ ফারুক ইসলাম, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ ৯:৫৯ সকাল

 

এক সময় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামসহ এর আশপাশের জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা হতো বোয়ালখালীর বাঁশের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী । কিন্তু একদিকে প্লাষ্টিকের তৈরি সামগ্রীর বাজার দখল অন্যদিকে বাঁশের মূল্যবৃদ্ধি এবং সে অনুপাতে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য না পাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে সংকট। ফলে এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট শত-শত পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বিগত কয়েক বছর আগেও উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী – শাকপুরা ও পোপাদিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হতো

বিভিন্ন ডিজাইনের গৃহস্থালি সামগ্রী। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বাঁশের মোড়া, চাটাই, পাটি, ঝুড়ি, দোলনা, চেয়ার, র্যাক, ডালা, কুলা, চালইন ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে এসব সামগ্রী তৈরির কারিগরদের হাতে আগের মতো তেমন কাজ নেই। তাই অনেকে টিকে থাকতে না পেরে পেশা পাল্ঠিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন গ্রাম্য মেলায় এসব পন্য এখনোও চোখে পড়লেও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ক্রেতারা পন্যগুলো কিনতে তেমন আগ্রহী হচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানাযায়- এর চেয়ে কমমূল্যে বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে রং- বেরং এর আরো আকর্ষনিয় ডিজাইনের প্লাষ্টিক সামগ্রী।

উপজেলার বেশ কয়েকটি দোকানে এখানো কিনতে মেলে এসব বাঁশের তৈরী পন্য। তবে ক্রেতাদের সংখ্যা খুবেই কম বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ঝুড়ি, ডালা ও চাটাইয়ের চাহিদা থাকলেও অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদা একেবারেই কম। শুধু তাই নয়, এসব ক্ষেত্রে লাভের মাত্রাও কম বলে জানায় বিক্রেতারা।
চরখিদিরপুরের বাসিন্দা রশিদ আহমদ জানান-কয়েক পুরুষ ধরে বাঁশ দিয়ে পণ্য তৈরি করে আসছে তার পরিবার। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এসব পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। কিন্তু পণ্য তৈরি করতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত তল্লা বাঁশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিশ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পাওয়ায় অর্থ কষ্টের কারণে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া করাতে পারেননি । নানা কষ্টের মধ্যেও এ পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
বোয়ালখালীতে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ের বড় মোকাম বসে মুরাদ মুন্সিরহাটে। এ বাজারে সপ্তাহের বৃহস্পতি ও রবিবার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাঁশের তৈরি পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।
কথা হয় কাজল (৭০) দে নামের এক বিক্রেতার সাথে। বয়সের ভারে প্রায় ন্যুয়ে পড়লেও জীবিকার লড়াই করে যাচ্ছেন এখনও। তিনি বলেন- দীর্ঘ দিন ধরেই বাঁশ-বেত দিয়ে নিজের তৈরি ঝুড়ি, খাঁচা, মোড়া,ডালা ও কুলা-চালইন বিক্রি করে আসছি। তবে এখন আর আগের মতো তেমন লাভ হয় না। সপ্তাহে দুই হাট করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকম দিন কাটছে। তবে তার গ্রামের অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।