ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ , , ১৯ রজব ১৪৪০

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে আলোচনা সভা র‌্যালী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮ ১১:৫৭ সকাল


চট্টগ্রামের বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকায় হাজী ইকবাল আলী আকবরের আয়োজনে ৪৬ তম মহান বিজয় দিবসের র‌্যালী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল গত ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাজী ইকবাল আলী আকবর, সভাপতি- বন্দর পতেঙ্গা, উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। র‌্যালীর উদ্বোধক ছিলেন- জনাব মোঃ সুলতান, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক। এতে বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জয়নাল আবেদীন চৌধুরী আযাদ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফরিদ নেওয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ ভুইয়া, সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বন্দর থানা শাখা, চট্টগ্রাম। ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বন্দর থানা চট্টগ্রাম মহানগর, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগ। কেএম মামুন আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগ, বন্দর থানা শাখা, চট্টগ্রাম। মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন তালুকদার, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগ, বন্দর থানা শাখা, চট্টগ্রাম মহানগর। মোঃ ঝন্টু মাঝি, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এ দিবসটি হচ্ছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের শীর্ষবির্য এবং বীরত্বের এক অবিষ্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভুখন্ডের নাম, জানান দেওয়ার দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই দিন বিকালে রেসকোর্স ময়দানে ( সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হানাদার পাকিস্তানি বাহীনি মিত্রবাহীনির কাছে আত্মসমর্পণ করে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে ২ লাখ মা বোনদের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশ এবং অপমাণের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবারের বিজয়ের ৪৭ তম বার্ষিকী। একাত্তরে মানবাতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং হচ্ছে। এই স্বস্তি নিয়ে আজ কৃতজ্ঞ জাতি। সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। বন্দর পতেঙ্গা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি হাজী ইকবাল আলী আকবরের নেতৃত্বে এবারের বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে উজ্জিবিত জাতি দিবসটি পালন করছে এবং করেছেন অন্য রকম অনুভুতি নিয়ে। অফুরন্ত আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্ণ হয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ইং। বিজয় দিবস সরকারী ছুটির দিন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতিয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। বন্দর পতেঙ্গার বড় ছোট এলাকাগুলো প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছিল। বক্তারা বলেন ১৯৭৭ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার যা কিছু আছে তা নিয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম পরে ২৫ মার্চ রাত্রে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। এই মুক্তিযুদ্ধে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্য সহযোগিতা করেছিল। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে যুদ্ধে উষ্ণ থেকে ছিনিয়ে ফুটন্ত সকাল্ বিজয়ের এই ৪৭ বছরে অনেক চড়া উৎরাই পেরিয়েছে জাতি কখনও সামনে এগিয়েছে আবার পিছিয়ে গেছে নানা রাজনীতিক টানা পোড়ানো তবুও হতোধার্য হয়নি জাতি। বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও উপজেলায়ও মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।